সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে মাত্র পাঁচ মাস। তার মধ্যেই বোলপুরে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে একের পর এক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। যা নিয়ে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার এক নেত্রী প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন। সমাজ মাধ্যমে দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন মহিলা মোর্চার সহ সভাপতি কাবেরী পাল পাত্র। তাঁর এই পোস্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্বকে। বিরোধীদের দাবি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এই পরিস্থিতি।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাবেরী পাল পাত্র দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন। বুধবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লাকে গুলি করে খুন, এবিভিপি কর্মীদের মারধর এবং আরএসএস কর্মীদের সঙ্গে বিজেপির কর্মীদের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
পোস্টে কাবেরীদেবী লেখেন, বোলপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির বুথ সভাপতি গুলি খেয়ে খুন হয়। এবিভিপির ছেলেরা মার খায়। আবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকরা হঠাৎ বিজেপির হাতে মার খায়। এইগুলো দেখব বলেই কি পরিবর্তন চেয়েছিলাম? এরকম চলতে থাকলে সংগঠনের একনিষ্ঠ কার্যকর্তারা এবং কর্মী সমর্থকরা সংগঠন থেকে দূরে সরে যাবে। বিজেপির তৃণমূলীকরণ হচ্ছে। উচ্চ নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ, নজর দিন, রাশ টেনে ধরুন। দলেরই এক নেত্রী এভাবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানানোয় চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। যদিও কাবেরী পাল পাত্রের দাবি, দলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তিনি নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ৪ তারিখের পর তৃণমূল এবং সিপিএম থেকে প্রচুর আগন্তুক হঠাৎ বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। যে কারণে আমাদের আদি বিজেপি আজ চাপা পড়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত ঘটনা দেখে আমাদের খারাপ লাগছে। তাই কোথাও আমার মনে হয়েছে, এবার দলের রাশ টানা দরকার। যাতে অতি বিজেপি এবং চরম বিজেপিকে আটকানো যায়। সেই কারণেই এ কথা লিখেছি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে সিপিএমও। দলের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, এই উপলব্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন হচ্ছে, তেমনি বিজেপির অন্দরেও হচ্ছে। যারা তৃণমূল সরকারকে সরানোর জন্য প্রত্যক্ষভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেও এই উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। তাই এখন তা প্রকাশ পাচ্ছে।
যদিও দলের অন্দরের বিষয় প্রকাশ্যে আনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তিনি বলেন, দলের অন্দরে কিছু বিষয় থাকে। সেগুলি প্রকাশ্যে এভাবে লেখা উচিত নয়। সমস্ত বিষয়ে আমাদের নজর রয়েছে। যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে, তা রুখতে দল কড়া হাতেই ব্যবস্থা নেবে।
বোলপুরে বিজেপি নেত্রীর পোস্ট।