Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যুবসাথীর লাইনে পদ্ম নেতার গবেষক ছেলে! নন্দীগ্রামের সিপিএম নেতারও আবেদন

যুবসাথী প্রকল্পে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রান করা হচ্ছে বলে একসুরে সরব রাম ও বাম।

যুবসাথীর লাইনে পদ্ম নেতার গবেষক ছেলে! নন্দীগ্রামের সিপিএম নেতারও আবেদন
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: যুবসাথী প্রকল্পে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রান করা হচ্ছে বলে একসুরে সরব রাম ও বাম। একইসঙ্গে রাজ্যের বেকার সমস্যা যে কতটা প্রকট, তা যুবসাথীর জন্য লম্বা লাইনই বলে দিচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। অথচ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সিপিএম ও বিজেপি নেতাকর্মীদের বাড়ির লোকরাই এইসব কথা কানে না তুলে যুবসাথীর লাইনে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। উচ্চশিক্ষিতরাও নিঃসংকোচে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুবসাথী স্কিমে মাসে দেড় হাজার টাকা পেতে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন। 

Advertisement

মহিষাদল ব্লকের কিসমত নাইকুণ্ডি পঞ্চায়েতের ঘাগড়া গ্রামের দেবব্রত জানা কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে কৃষিবিদ্যায় গবেষণা করছেন। তাঁর বাবা তুষার জানা বিজেপির মহিষাদল-১ মণ্ডল কমিটির গত টার্মের সভাপতি। তিনি তালুক গোপালপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। এই মুহূর্তে তুষারবাবু বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের মহিষাদল ব্লক সভাপতি। সোমবার তুষারবাবুর ছেলে দেবব্রত মহিষাদল ব্লকে কুমোদিনী ডাকুয়া মুক্ত মঞ্চে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন জমা করেছেন। গবেষক হয়েও ওই বিজেপি নেতার ছেলে যুবসাথী স্কিমের সুবিধা নিতে আগ্রহী। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গড় চক্রবেড়িয়া গ্রামের সইফুদ্দিন খান সিপিএমের নন্দীগ্রাম দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সদস্য। ইতিহাসে এমএ, বিএড এবং ডিএলএড কোর্স করেছেন সাইফুদ্দিন। বাবা একসময় কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল কংগ্রেস করলেও সইফুদ্দিন কট্টর সিপিএম। নিজের এলাকায় দলের মুখ হিসেবে পরিচিত। শিক্ষকতার চাকরির আশায় ইতিহাসে এমএ পাশ করার পর বিএড করেছেন। এসএসসি-র পাশাপাশি প্রা‌ইমারি টেটে বসার লক্ষ্যে ডিএলএড পাশ করেছেন। কিন্তু, শিক্ষকতার চাকরি জোটেনি। সোমবার নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিসে ওই সিপিএম নেতা যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম জমা করেছেন। দেবব্রত জানা, সইফুদ্দিন খানের মতো পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অসংখ্য বিজেপি ও সিপিএম নেতার বাড়ির ছেলেমেয়েরা যুবসাথী স্কিমে ভরসা রেখে আবেদন করেছেন। নেতারা এই স্কিমের বিরোধিতা করলেও তাঁদের বাড়ির সদস্যরাই তাতে কর্ণপাত করছেন না। গত দু’ দিনে পূর্ব মেদিনীপুরে ৩১টি ক্যাম্পে প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তারমধ্যে সিংহভাগ যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম। সোমবার থেকে অনলাইনেও যুবসাথীর ফর্ম জমা করার সুবিধে চালু হয়েছে। যে কারণে বিডিও অফিসে ভিড় খানিকটা কমবে বলে অনুমান।
সিপিএম নেতা সইফুদ্দিন বলেন, আমার বয়স ৩৬ বছর হয়ে গেল। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছি। কিন্তু, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি এবং তাকে ঘিরে জটিলতায় একটা গোটা প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। তাই অগত্যা রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করেছি। আমি চাই, আমাদের পরের প্রজন্ম যেন এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।মহিষাদলের বিজেপি নেতা তুষার জানা বলেন, ছেলে মাধ্যমিকে ৮৯ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে ৮২ শতাংশ নম্বর পায়। এই মুহূর্তে কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে এগ্রোনমি নিয়ে গবেষণা করছে। এলাকায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত। যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন জমা করেছে। ওই টাকা নিজের পড়াশোনায় খরচ করতে চায়। পাশাপাশি চাকরির চেষ্টাও করছে।  সোমবার তমলুকের নাইকুড়ি ব্লকে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনের জন্য ভিড়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ