সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে আক্রান্ত হলে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সহ এলাকার বিজেপি নেতাদের ঘর থেকে বেরতে দেব না। বৃহস্পতিবার জয়পুরে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় এমনই হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত। দলের জয়পুর ব্লক সভাপতি কৌশিক বটব্যালের নেতৃত্বে ভাস্করানন্দ মঞ্চে ওই সভা হয়। উপস্থিত ছিলেন কোতুলপুরের বিধায়ক হরকালী প্রতিহার সহ অন্যান্যরা। ২১ জুলাইয়ের সভায় গিয়ে কেউ হারিয়ে গেলে অথবা কোনও সমস্যায় পড়লে তাঁদের জন্য চারটি হেল্প লাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
আয়োজিত সভায় সুব্রতবাবু বলেন, ভিনরাজ্যের এক কোটি পরিযায়ী শ্রমিক আমাদের বাংলায় কাজ করছেন। তাঁরা আমাদের সরকারের যাবতীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন। কিন্তু, আমাদের রাজ্যের ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিস তাঁদের হেনস্তা করছে। বাংলায় কথা বললেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকাচ্ছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। তাই আমরাও বলছি বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার কোনও পরিযায়ী শ্রমিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে পুলিসি হেনস্তার শিকার হলে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সহ এলাকার বিজেপি নেতাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি আরও বলেন, বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদকে যাঁরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাঁরাই আজ বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে পুলিসি হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আমাদের এলাকার আর একজনও যদি ভিনরাজ্যে আক্রান্ত হন তাহলে আমরাও এখানকার বিজেপি নেতাদের ঘর থেকে বেরতে দেবে না।
এনিয়ে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, নেতা হয়েছেন হন। দাদাগিরি দেখাবেন না। গুন্ডামির ফল মাথার চুল পাকার আগেই শেষ হয়ে যাবে।
ব্লক তৃণমূল সভাপতি কৌশিক বটব্যাল বলেন, জয়পুর ব্লক থেকে এবার বহু কর্মী ও সমর্থক শহিদ সমাবেশে যোগ দেবেন। এদিন প্রস্তুতি সভা হয়। মানুষের উৎসাহ এতটাই যে, সকলকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা পরিবহণের ব্যবস্থা করে উঠতে পারছি না।
জেলা সভাপতি বলেন, এবার আমরা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা থেকে ৫০হাজার কর্মী ও সমর্থককে ২১জুলাইয়ের সমাবেশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষমাত্রা নিয়েছি। গ্রামের অনেকেই কলকাতার রাস্তাঘাট চেনেন না। তাঁরা কোনওভাবে বিপদে পড়লে যাতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই জন্য চারটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। ওই নম্বরগুলি প্রতিটি গাড়িতে দিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের জেলা থেকে ৫০০-র বেশি বাস ও দু’হাজারেরও বেশি ছোট গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।