নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দুই ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ তকমা লেন বিজেপি নেতা নিজেই পড়লেন বিপাকে! বেকায়দায় পড়ে বিডিওর কাছে রীতিমতো ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছেন ওই বিজেপি নেতা। ঘটনাটি বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার টাকি পুরসভা এলাকার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দুই ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ তকমা লেন বিজেপি নেতা নিজেই পড়লেন বিপাকে! বেকায়দায় পড়ে বিডিওর কাছে রীতিমতো ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছেন ওই বিজেপি নেতা। ঘটনাটি বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার টাকি পুরসভা এলাকার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ ডিসেম্বর। বিজেপির বসিরহাট দক্ষিণ মণ্ডল ৩-এর সভাপতি রঞ্জিত দাস হাসনাবাদের বিডিও-কে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে তাঁর অভিযোগ ছিল, বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার টাকি পুরসভার ২৭৪ বুথের বাসিন্দা রুহুল আমিন মণ্ডল ও আব্দুল সাত্তার মণ্ডল বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁর ওই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয় তদন্ত। নথি যাচাইয়ের পর স্পষ্ট হয়ে যায়, দু’জনের কেউই বাংলাদেশি নন। জন্মসূত্রে তাঁরা ভারতের নাগরিক। বিগত কয়েক দশক ধরে তাঁদের পরিবার ওই এলাকাতেই বসবাস করে আসছে। ভোটার তালিকা, আধার কার্ড সহ একাধিক সরকারি নথিতে তাঁদের ভারতীয় পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশাসনের অস্বস্তি যেমন বেড়েছে, তেমনই রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়েন অভিযোগকারী বিজেপি নেতা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত হাসনাবাদের বিডিওর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন রঞ্জিত দাস। চিঠিতে তিনি স্বীকার করেন যে অভিযোগটি ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। এর জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে সাধারণ মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্তা করার বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আব্দুল সাত্তার মণ্ডল ও রুহুল আমিন মণ্ডল বলেন, ‘বিজেপির মিথ্যা অভিযোগের জন্য আমরা আতঙ্কিত। আমাদের মানসিক চাপও সহ্য করতে হয়েছে। এনিয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’ বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটাই বিজেপি। ওদের চক্রান্তের পর্দা ফাঁস হল। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।’ যদিও ঘটনার পর থেকে পলাতক বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্বও।