Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিডব্লুডির জমি দখল করে বেআইনি দোতলা বাড়ি নির্মাণ বিজেপি নেতার, হাঁসখালিতে নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের

দখলী জায়গায় বিজেপি নেতার বেআইনি নির্মাণ। তাতে আবার জাঁকিয়ে বসেছিল গেরুয়া শিবিরের পার্টি অফিস। বিজেপির বিধায়ক থেকে দলীয় নেতারা বৈঠক সারতেন সেই বেআইনি ভবনেই।

পিডব্লুডির জমি দখল করে বেআইনি দোতলা বাড়ি নির্মাণ বিজেপি নেতার, হাঁসখালিতে নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দখলী জায়গায় বিজেপি নেতার বেআইনি নির্মাণ। তাতে আবার জাঁকিয়ে বসেছিল গেরুয়া শিবিরের পার্টি অফিস। বিজেপির বিধায়ক থেকে দলীয় নেতারা বৈঠক সারতেন সেই বেআইনি ভবনেই। এবার অবিলম্বে সেই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনাটি নদীয়ার হাঁসখালি থানা এলাকার বগুলার। আদালতের নির্দেশমতো দ্রুত বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য নির্মাণকারী নেতাকে সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির জলঘোলা শুরু হয়েছে। চড়া সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল।

Advertisement

বিতর্কিত জায়গাটি হাঁসখালি রোডের নোনাগঞ্জ মোড় সংলগ্ন বাসহাটা এলাকার। যা রানাঘাট লোকসভা, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা ব্লকের হাঁসখালি ব্লকের বগুলা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজেপির হাতে ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতার জোরে নাকি পিডব্লুডির জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ গড়ে তুলেছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা নির্মল বাইন। এক্কেবারে ঝাঁ চকচকে দোতলা বাড়ির একাংশে আবার গড়ে উঠেছে ওই এলাকার বিজেপির পার্টি অফিস। গেরুয়া শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, সেখানে তাঁদের দলের বিধায়ক থেকে স্থানীয় নেতৃত্বের নিয়মিত আসা যাওয়া ছিল। দলীয় বৈঠকও হতো। এহেন বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। তার রায়ে দ্রুত সরকারি জমি থেকে ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। জানা গিয়েছে, দখলীকৃত জমিটি পিডব্লুডির অধীন। ঠিক তার পিছনেই জমি রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা লিপিকা বিশ্বাসের। বেআইনি নির্মাণটির জন্য তাঁর জমি থেকে মূল রাস্তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল। তাই তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই বেআইনি নির্মাণের বিরোধিতা করছিলেন। তিনি বলেন, বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, বিজেপি নেতারা আমাকে লাগাতার হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে থাকেন। আমাকে ওঁরা মারধর করার চেষ্টা পর্যন্ত করেন। বিজেপির বড় নেতাদের মদতেই এই বেআইনি নির্মাণ হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়েই আমি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ওই বেআইনি নির্মাণ যে তাঁদেরই দলের নেতার তৈরি এবং সেখানে পার্টি অফিস চলার বিষয়টি স্বীকার করে নেন বগুলা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান সুস্মিতা বর্মন। আজব যুক্তি খাড়া করে তিনি বলেন, অনেকেই তো পিডব্লুডির জায়গা দখল করে রয়েছে। এটা নিয়েই কেন সমস্যা? তৃণমূলের চক্রান্ত। আমাদের ওই বাড়িটা খুব কাজে লাগে। বিধায়ক সাহেব আসেন। পার্টির মিটিং করতে হয়। আমার মনে হয়, ওই বাড়ি ভাঙা উচিত নয়। তবে আদালতের রায় তো মানতেই হবে। এদিকে, নির্মাণকারী অভিযুক্ত বিজেপি নেতা নির্মল বাইনকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেননি। হাঁসখালি ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সায়ন্তন ভট্টাচার্য বলেন, আমরা কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়েছি। সেইমতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাঁরা ওই বেআইনি নির্মাণ করেছেন, তাঁরা নিজেরাই ভেঙে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমরা কিছুটা সময় দিয়েছি। তা না হলে আদালতের নির্দেশমত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে রাজনৈতিক আক্রমণ থেকে বিরত থাকেনি তৃণমূল। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আইন-কানুন, সংবিধান অমান্য করাই বিজেপির সংস্কৃতি। এই ঘটনা থেকেই তা প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। ন্যূনতম ক্ষমতা পেয়েই এভাবে তার অপব্যবহার করছে। মানুষ বুঝতে পারছে, রাজ্যে এরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কি নৈরাজ্যটাই না তৈরি হবে। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ