নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত জেলা বিজেপির দ্বন্দ্ব বেআব্রু। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর ঝামেলায় ঝরল রক্ত। এক মহিলা নেত্রীকে বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দলের বুথ সভাপতির বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়নগরে। আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী সুভদ্রা অধিকারী বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত সুদর্শন দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে বারাসত আদালতে তোলা হলে জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গত পুরসভা নির্বাচনে বারাসত পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সুভদ্রাদেবী। এলাকা দখল নিয়ে স্থানীয় বুথ সভাপতি সুদর্শন দাসের সঙ্গে তাঁর বিবাদ সর্বজনবিদিত। মাঝে মধ্যে ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করেছে দলীয় নেতৃত্ব। তাতে অবশ্য খুব একটা কাজ হয়নি। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় সুভদ্রার সঙ্গে সুদর্শনের বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এবার হাইভোল্টেজ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তা প্রকাশ্যে এল। সুভদ্রার অভিযোগ, সকালে তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় বুথ সভাপতি সুদর্শন ও তাঁর দলবল আচমকা হামলা চালায়। ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে হামলা। বাঁশ, শিকল, লাঠি ও ধারালো কিছু দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করেন সুভদ্রাকে। তাঁর দাবি, মারধরের ঘটনা নতুন নয়। একাধিকবার আমাকে হেনস্তা করেছে সুদর্শন ও তাঁর লোকজন। ওর কঠোর শাস্তি চাই। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার সমীর কুণ্ডু বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসেনি, তার মধ্যে এইরকম অবস্থা। একজন মহিলাকে নৃশংসভাবে মারধর করল বিজেপি নেতা। আর এরাই মহিলাদের সুরক্ষার জন্য লম্বা চওড়া ভাষণ দেয়। আমরা চাই অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি। একজন মহিলাকে এভাবে মারধর মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক বলে মনে হচ্ছে না। এটা পারিবারিক বা এলাকাগত কোনো বিষয় হতে পারে। দলীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।