Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দলেরই কর্মীদের হাতে আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী, মারধর মাকেও

তৃণমূল জমানায় প্রতিবাদ করায় মার খেয়ে হাত ভেঙেছিল। পালাবদলের পর অনেক স্বপ্ন দেখা সেই বিজেপি নেত্রী অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দলের মণ্ডল সভাপতি সহ বাকি নেতৃত্বের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

দলেরই কর্মীদের হাতে আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী, মারধর মাকেও
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তৃণমূল জমানায় প্রতিবাদ করায় মার খেয়ে হাত ভেঙেছিল। পালাবদলের পর অনেক স্বপ্ন দেখা সেই বিজেপি নেত্রী অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দলের মণ্ডল সভাপতি সহ বাকি নেতৃত্বের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ছাড়া পাননি ওই নেত্রীর মা’ও। এমনকি, থানায় গেলেও পুলিশের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে কান্নায় ভেঙে পড়া বরানগরের ওই বিজেপি নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছেন। শেষমেষ বাধ্য হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপরও হুমকি অব্যাহত বলে অভিযোগ। বিজেপি নেত্রীর দাবি, আমার পরিবার ফের আক্রান্ত হলে, আমি আত্মঘাতী হব। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, কুকুরকে খাবার দেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া এই ঝামেলার ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisement

বরানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিপাড়ার বাসিন্দা তনুশ্রী ভট্টাচার্য। তিনি ২০২১ ও ২০২৪ সালে ১৮৩ নম্বর পার্টের বুথ সভাপতি ছিলেন। গত ২৪ আগস্ট রাতে তিনি আক্রান্ত হন। তনুশ্রীদেবীর অভিযোগ, অন্যান্য দিনের মতো তিনি ওই রাতে বাড়ি লাগোয়া রাস্তায় কুকুরকে খাবার দিতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় দলের বরানগর -২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারীর নেতৃত্বে বাকি বিজেপি নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে। তার মোবাইলে থাকা দলের নেতাদের দুর্নীতির ভিডিয়ো ডিলিট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় তনুশ্রীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। জোর করে মোবাইল ছিনিয়ে ভিডিয়ো ডিলিট করা হয়। বাঁচাতে এলে তাঁর মাকেও মারধর করা হয়। তনুশ্রীদেবী বলেন, আমি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলাম। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। বারবার পুলিশকে বলেছি, ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ফুটেজ সংগ্রহ করুন। আমি মিথ্যে বললে, আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিন। রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। বাধ্য হয়েই শেষপর্যন্ত আদালতে অভিযোগ জানিয়েছি।  এখনও আমার পরিবারকে ওরা (দলেরই লোকজন) হুমকি দিচ্ছে। মিথ্যা কেসে থানায় ঢোকাবে বলছে। তৃণমূল আমলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আক্রান্ত হয়েছিলাম, হাত ভেঙেছিল। দল ক্ষমতায় আসার পরেও মার খেতে হচ্ছে। তনুশ্রীর আক্ষেপ, নারী নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্সের নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সভায় পুলিশ প্রশাসনকে এনিয়ে কঠোর পদক্ষেপের বার্তাও দিয়েছেন। অথচ, বরানগরে দলের কথায় পুলিশ চলছে। তাহলে আর কীসের পরিবর্তন! আমার পরিবার ফের আক্রান্ত হলে, আমি আত্মহত্যা করব। 
এই বিষয়ে বিজেপির বরানগর-২ মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ। এমন নামের কেউ দলের নেত্রী আছেন, আমি জানি না। মারধর তো দূরের কথা। অহেতুক কেন এমন অভিযোগ করা হচ্ছে, বলতে পারব না। হতে পারে, ওই ভদ্রমহিলা কোনও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ওঁনাকে দিয়ে হয়তো কেউ এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ