নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শহরের এক গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে আগেই ‘গুণধর’ তকমা জুটেছিল খড়্গপুরের এক বিজেপি নেতার। তা সত্ত্বেও দাপটের সঙ্গে দলের নানা কর্মসূচিতে দেখা যেত তাঁকে। এবার সেই বধূরই মেয়েকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে শ্রীঘরে ঠাঁই হল দীপসোনা ঘোষ নামে ওই নেতার। ঘটনাটি সামনে আসতেই তোলপাড় রেলশহর। দলীয় নেতার কীর্তিতে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবিরও।
জানা গিয়েছে, ধৃত দীপসোনার বাড়ি খড়গপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের লেলিন পার্ক সংলগ্ন। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দীপসোনার বিরুদ্ধে সরাসরি আদালতে অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খড়্গপুর টাউন থানার আইসি পার্থসারথি পালের নেতৃত্বে পুলিশের আধিকারিকরা খড়গপুর শহরের সুভাষপল্লি এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। শুক্রবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এক বিজেপি নেতার কথায়, আগেও দীপসোনার বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল। ক’বছর আগে এক বিজেপি নেত্রীকেও নানাভাবে হেনস্তায় অভিযুক্ত তিনি। অথচ, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের প্রথম সারির নেতাদের নীরব ভূমিকা ছিল।
যদিও মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিতে হবে। তবে, ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে দলের কোনও যোগাযোগ ছিল না বলেই জানি। যাইহোক না কেন দল কোনও অনৈতিক কাজকে সমর্থন করে না।’ মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘একজন বিজেপির নেতার কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না! ওঁরা দলের মহিলা কর্মীদের সম্মান দিতে জানেন না।’
জানা গিয়েছে, দীপসোনা একসময় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ছিলেন। পুরসভার ভোটে লড়াইও করেছিলেন। তখন থেকেই ওই বধূর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অক্টোবরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব চালায় দীপসোনা। সেই সময় বধূর কন্যাকে যৌন হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় বধূর বাড়ির লোকেরা সরাসরি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলে পুলিস সূত্রে খবর।