সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যর সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগে জেল খাটা এক বিজেপি নেতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে রামপুরহাট সহ গোটা বীরভূমে। জাতীয় মহিলা কমিশনের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যর সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগে জেল খাটা এক বিজেপি নেতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে রামপুরহাট সহ গোটা বীরভূমে। জাতীয় মহিলা কমিশনের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
বছর তেরোর আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় উত্তাল রামপুরহাট। ঘটনায় ধৃতের দ্রুত ফাঁসির সাজার এবং জড়িত বাকিদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করছে আদিবাসী সংগঠনগুলি। শুক্রবার এই দাবিতে রামপুরহাট শহরে অস্ত্র হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল। ঠিক সেইদিন বিকেলে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার। সেদিনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি)। ভিডিওতে তাতে দেখা যাচ্ছে, অর্চনাদেবীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিজেপির আদিবাসী নেতা সুনীল মুর্মু। যিনি নিজে ধর্ষণে অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ মার্চ সুনীলের নামে সিউড়ি থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন এলাকারই এক আদিবাসী যুবতী। সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার খোদ সিউড়ি থানার আইসি সঞ্চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, জলের সঙ্গে মাদক জাতীয় কিছু মিশিয়ে খাইয়ে দু’ দিন ধরে যুরতীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তর খোঁজে পুলিশ তাঁর মুর্শিদাবাদের কান্দির বাড়িতে গেলেও তাঁকে পায়নি। অবশেষে গত ২০ জুলাই সিউড়ির ডাঙালপাড়ার বাড়ি থেকে সুনীলকে গ্রেফতার করে পুলিস। আদালতের নির্দেশে তাঁর জেল হয়। কয়েকদিন আগেই জামিন পেয়েছেন ওই বিজেপি নেতা। স্বভাবতই এইরকম এক অভিযুক্তের সঙ্গে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যর ছবি ও ভিডিও নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে আমাদের অদ্ভুত লাগছে এই জন্য যে, জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য একজন ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপির নেতার সঙ্গে নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি গেলেন। এই মহিলা কমিশনই আবার এরাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনা করছে। তাঁরা অভিযোগ করছে, এসপি, এসডিপিও কেউ তাঁদের সহযোগিতা করছেন না। কিন্তু বাস্তবে সবরকমের সহযোগিতা করা হয়েছে। এসপিকেই দরকার তার তো কোনও মানে নেই। আধিকারিকরা সবসময় সহযোগিতা করছেন। তদন্ত যথেষ্ট দ্রুতগতিতে হচ্ছে। শুধুমাত্র রাজনীতির আঙিনায় দাঁড়িয়ে তিনি এই সমস্ত কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছেন। আর ধর্ষণে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘুরছেন। এতে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, নীতি নৈতিকতা বিজেপির কাছে আশা করা যায় না। তাই তো ধর্ষণে অভিযুক্তকে নিয়ে ধর্ষিতা, খুন হওয়া ছাত্রীর বাড়িতে বিচার দিতে যাচ্ছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য।