নিজস্ব প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ: বিজেপির হিন্দুত্বের তাস কি অকেজো হচ্ছে? সাম্প্রতিক কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা। দেখা যাচ্ছে, হিন্দু প্রধান একাধিক এলাকায় বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল। উপনির্বাচনে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়েছিল পদ্ম শিবির। কিন্তু তারপরেও তিন শতাংশ ভোট কমেছে বিজেপির। যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে ‘হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী’-দের। কালীগঞ্জ, মাটিয়ারি, গোবরার মতো পঞ্চায়েতগুলোতে মুখ পুড়েছে বিজেপির। রাজনৈতিক মহলের দাবি, জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্রের নেতৃত্বাধীন ব্লক সংগঠনের সঙ্গে প্রয়াত বিধায়কের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। টিকিটের দাবিদার ছিলেন কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালী খাতুন। তবে দলের তরফ থেকে প্রয়াত বিধায়কের কন্যা আলিফা আহমেদকে টিকিট দেওয়া হয়। এতে তৃণমূলের মধ্যে অন্তর্ঘাতের যে আশঙ্কা করছিল রাজনৈতিক মহল, তার প্রভাব কিন্তু উপনির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়নি। প্রয়াত বিধায়ক কন্যা আলিফা আহমেদের হয়ে চুটিয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ সমগ্র ব্লক সংগঠনকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূলের সম্মিলিত প্রয়াসই বিজেপিকে আটকেছে। কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূল সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতি মানুষ মানছে না। তাঁরা পরিষেবা চান। তাই মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করছে। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কালীগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার হিন্দু। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই পঞ্চায়েতে ৪০৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে, এই উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ওই পঞ্চায়েতে ২০৮৫ ভোটে এগিয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের প্রাপ্য ভোট ৮৬৩৩ এবং বিজেপির প্রাপ্য ভোট ৬৫৪৮। লোকসভার নিরিখে এই পঞ্চায়েতে বিজেপির প্রায় ১০ শতাংশ ভোট কমেছে।



