Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে বিজেপি: মমতা, এবার পুনে, পুরুলিয়ার যুবক খুনে তোলপাড়, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

বাংলা বিদ্বেষ। বাঙালির প্রতি ‘ঘৃণা’! একের পর এক ঘটনা এভাবেই ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিকে বাঙালির বধ্যভূমি হিসাবে প্রমাণ করছে। বারবার।

বাংলার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে বিজেপি: মমতা, এবার পুনে, পুরুলিয়ার যুবক খুনে তোলপাড়, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা বিদ্বেষ। বাঙালির প্রতি ‘ঘৃণা’! একের পর এক ঘটনা এভাবেই ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিকে বাঙালির বধ্যভূমি হিসাবে প্রমাণ করছে। বারবার। এবারের সংযোজন পুরুলিয়ার তরতাজা যুবক সুখেন মাহাত। বাইকের যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। অপরাধ? বাংলায় কথা বলা! তার ফল এভাবে কুপিয়ে খুন? এই প্রশ্ন উঠছে। আর সঙ্গে প্রবল ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ বৃহস্পতিবার ঘটল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। মহারাষ্ট্রের পুনেতে একজন সাধারণ বাঙালি শ্রমিকের মর্মান্তিক পরিণতিকে তিনি ‘হেট ক্রাইম’ বলে তোপ দেগেছেন। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, এই বর্বরোচিত ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ, মর্মাহত।

Advertisement

মহারাষ্ট্রের পুনেতে বাংলায় কথা বলায় হেট ক্রাইমের শিকার পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বাসিন্দা ২৪ বছরের পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো। তাঁকে নির্মম ভাবে খুনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড তাঁকে ‘স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত’ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘সুখেন মাহাতো তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন। ভাষা ও পরিচয়ের বিদ্বেষেই সুখেনকে টার্গেট করা হয়েছে। একজন যুবককে তাঁর ভাষা, পরিচয় ও শিকড়ের জন্য তাড়া করে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ বিজেপি বাংলার বিরুদ্ধে যেভাবে ঘৃণা ছড়াচ্ছে, সেই বিদ্বেষকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিন ভাই সুখেন মাহাতরা। সবাই মিলে অনেক কষ্ট করে বোনের বিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর পুরুলিয়ার বরাবাজারে নিজের বাড়ির কাজে হাত দিয়েছিলেন তিন ভাই। একটু একটু করে গড়ছিলেন। তারপর বিয়ে করতেন। সেই সুখেনেরই এমন মৃত্যু! মানতে পারছেন না মমতা। রাজ্যের তরফে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশ্বাস, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না।’ 
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় পড়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্র পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, সুখেন মাহাতর দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সুখেন মাহাতর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ, শুক্রবারই পুরুলিয়া যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে এই ইস্যুতে গর্জে উঠেছে তৃণমূল। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বিজেপি। বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই—এই স্লোগান দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এভাবে ওরা আসলে বুঝিয়ে দিয়েছে, বাঁচতে গেলে বিজেপি করতে হবে না হলে মরতে হবে।’ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে দেশের মানুষ বলে মনে করছে না বিজেপি। বাংলার মানুষকে মেরে ফেলতে হবে! ঘৃণ্য ঘটনা। ধিক্কার জানাই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ