সংবাদদাতা, বারুইপুর: সামনের বছরেই হতে পারে পুরসভা নির্বাচন। তার আগে বারুইপুর পুরসভা এলাকায় একের পর এক দলীয় কার্যালয় খুলে সংগঠন জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে বারুইপুর পশ্চিমের বিজেপি নেতৃত্ব। ২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত এসব এলাকার অধিকাংশই ছিল তৎকালীন শাসক দল তৃণমূলের খাসতালুক। কিন্তু পালাবদলের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জোরদার সংগঠন ছাড়া পুরভোটে সাফল্য অধরা থেকে যেতে পারে বলে মনে করছে পদ্ম শিবির। আর সে কথা মাথায় রেখেই শহরজুড়ে চলছে বিজেপি কার্যালয় খোলার পর্ব। এ বিষয়ে বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘দলীয় অফিস থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। মানুষ যাতে সরকারি পরিষেবা সহজে পায়, সেদিকে নজর রাখা হবে। যেসব ওয়ার্ডে দলীয় অফিস খোলা বাকি আছে, আগামী দিনে সেখানেও তা খোলা হবে। কর্মীদের বলে দেওয়া হয়েছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দলীয় অফিস নয়।’
বারুইপুর পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে ১, ২, ৩, ১০, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই দলীয় কার্যালয় খুলে ফেলেছে বিজেপি। কোনো চাকচিক্য নয়, অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া অফিসই তৈরি করছে বিজেপি নেতৃত্ব। শনিবার বারুইপুর স্টেশনের কাছে ১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘেঁষা এলাকায় দলীয় অফিস উদ্বোধন করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ডঃ শতরূপা। ছিলেন মণ্ডল সভাপতি তথা আইনজীবী গৌতম চক্রবর্তীসহ অন্যান্যরা। বারুইপুরে এমনিতেই বিজেপির অন্দরে একাধিক বিভাজন আছে। বিবদমান গোষ্ঠীগুলির ঠান্ডা লড়াই চলে। কিন্ত এসবে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। তাঁর মতে, পুরসভা এলাকায় নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করেই পুরভোটে লড়তে হবে। বিভাজন, ঠান্ডা লড়াই এসব মিডিয়ার দেওয়ার বয়ান।
প্রসঙ্গত, বারুইপুর পুরসভায় ১৭টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসেরই কাউন্সিলার রয়েছেন। কিন্তু গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়। এই অবস্থায় বারুইপুর পুরসভা নিজেদের হাতে নিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। প্রতীকী ছবি



