নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই স্বাস্থ্য জেলায় কিশোরীদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার হার কিছুটা হলেও কমেছে। পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলায় মোট যতজন গর্ভবতী হয়েছিলেন, তারমধ্যে ১২ শতাংশই ছিল কিশোরী। এ বছর এখনও পর্যন্ত তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলায় কিশোরীদের গর্ভবতী হওয়ার হার ১৭ থেকে কমে ১৫ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের আগস্ট মাসের রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এই জেলায় এক সময় কিশোরীদের অন্তঃসত্ত্বা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্বাস্থ্যকর্তাদের। এমন কিছু ব্লক রয়েছে, যেখানে এই প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সেই তালিকায় ছিল ক্যানিং ১ ও ২ নম্বর, বাসন্তী এবং কুলতলি। এ বছর আগস্ট পর্যন্ত ক্যানিং ১ ও ২ নম্বর ব্লকে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বার হার কমেছে প্রায় দু’শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২৩-’২৪ সালে এই দু’টি ব্লকে এই হার ছিল ২০ শতাংশ। এদিকে, ডায়মন্ডহারবারের মথুরাপুর ১ ও ২ নম্বর ব্লকেও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এই সংখ্যা। ২০২৩-’২৪ সালে এই দুই ব্লকে যথাক্রমে ১৭ ও ১৫ শতাংশ কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। এখন মথুরাপুর ১-এ ১০ শতাংশ এবং মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে এই হার। ডায়মন্ডহারবার ২ নম্বর ব্লকে ১১ শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীদের হার। অল্প বয়সে বিয়ে করার যে প্রবণতা গ্রামীণ এলাকায় দেখা যেত, সেটিও অনেকটা কমেছে বলে এই গ্রাফ এখন নিম্নমুখী। এমনটাই দাবি করেছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা।
তাঁরা বলেছেন, আশাকর্মীদের আরও সক্রিয় করে তোলার পাশাপাশি লাগাতার প্রচার, স্কুলে স্কুলে গিয়ে ছাত্রীদের থেকে নিয়মিত খবর নেওয়া ইত্যাদি কাজ হয়েছে। এই জেলায় একবারে এই প্রবণতা অনেকটা কমানো কঠিন। তবে প্রতি বছর যেভাবে এই হার কমছে, তাকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। প্রতীকী ছবি



