নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভাব কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। তাই সংসারের জোয়াল টানতে আজও শহরের অলিতে‑গলিতে গান গেয়ে বেড়ান ৭৪ বছরের বৃদ্ধ শঙ্কর সেনগুপ্ত। কালজয়ী গান সেসব। মান্না দে, শ্যামল মিত্র, কিশোরকুমার, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, শচীনদেব বর্মন, তালাত মাহমুদ— কে নেই তাঁর ঝুলিতে!
সোমবার বিকালে কথা হচ্ছিল এই অনামী সংগীত শিল্পীর সঙ্গে। গান গাওয়ার ফাঁকে তিনি বলেন, শরীর ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। বয়স হয়েছে। মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু সংসার বাঁচাতে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ি শহরের রাজপথে, চেনা-অচেনা গলিতে। বক্স নিয়ে মিউজিকের তালে তালে প্রাণ ভরে গান গাই। মানুষ ভালোবেসে পাঁচ, দশ টাকা দিয়ে যান। কেউ কেউ আবার মাঝেমধ্যে খাবারও কিনে দেন। তা দিয়ে কোনোভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি।
কথা প্রসঙ্গে এই শিল্পী বলেন, ছোটো থেকেই গান ভালোবাসি। একটা সময় ছোটোখাটো ব্যবসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেই ব্যবসা চলেনি। ফলে বাঁচার জন্য গানকেই শেষমেশ পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছি। মানুষের ভালোবাসা না পেলে হয়ত, এই পেশা থেকেও বিদায় নিতে হত। একটু দম নিয়ে বলেন, এই বয়সে আর ভিড়ভাট্টা ভালো লাগে না। তাই দুর্গাপুজো মিটে যাওয়ার পর ফের পথে নেমেছি গান গাইতে।
শঙ্করবাবু বলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বাংলার মানুষ এখনও স্বর্ণযুগের বাংলা গান ভালোবাসেন। তারিফ করেন। কেউ কেউ ভালোবেসে ‘কালজয়ী’ শিল্পী মান্না দে’র গান শুনতে চান। কেউ বলেন হেমন্তর গান গাইতে। ভূপেন হাজারিকার গানের অনুরোধও মাঝেমধ্যে পাই। আর কেউ কোনো নির্দিষ্ট শিল্পীর নাম না করলে এলাকার অনুভূতি বুঝে সেই মতো গান গাওয়ার চেষ্টা করি। গান গেয়ে কেমন আয় হয়? উত্তরে বৃদ্ধ শিল্পী বলেন, কোনোদিন একশো টাকা, কোনোদিন দেড়শো টাকা। কখনও কখনও একটু বেশিও হয়। তবে বৃষ্টি‑বাদলের দিনে কিছুটা সমস্যা হয়। তখন কোনোদিন আয় হয়, কোনোদিন হয় না। রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা তন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘এই প্রবীণ শিল্পীর গলায় কালজয়ী শুনতে ভালোই লাগে। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।’ বাগবাজার স্ট্রিটের বাসিন্দা শুভেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘এই মানুষটি এতটাই দরদ দিয়ে গান করেন, যা শুনে থমকে যেতেই হয়।’



