সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: পার্টি অফিস উদ্বোধন ঘিরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের সাক্ষী রইল জামুড়িয়ার বীরকুলটি গ্রাম। রবিবার রাতে পার্টি অফিস উদ্বোধনে এসে চরম হেনস্তার শিকার হলেন বিজেপি বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে চলে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, চলে ধস্তাধস্তি। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পার্টি অফিস উদ্বোধন না করেই ফিরে যান তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, বালি কয়লা ও ব্ল্যাক স্টোন ডাস্ট কারবারের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই গেরুয়া শিবিরের এই সংঘর্ষ। রবিবার বিকাল থেকে বীরকুলটি গ্রামে হাজির ছিল পুলিশ। উপলক্ষ, বিজেপির একটি পার্টি অফিস উদ্বোধন। এক পক্ষ যখন পার্টি অফিস সাজিয়ে তা উদ্বোধন করতে তৈরি। বিরুদ্ধ পক্ষ তখন কালো পতাকা হাতে গ্রামে জড়ো হয়। তাদের দাবি, কোনোমতে এই পার্টি অফিস উদ্বোধন করতে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রবিবার রাতে পার্টি অফিস উদ্বোধনের হাজির হন বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়। তিনি আসতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক পক্ষ যখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে পার্টি অফিসের দিকে নিয়ে আসছে। তখনই তাদের পথ আটকায় বিরোধী শিবির। কালো পতাকা হাতে বিধায়ককে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকে তারা। দু’ পক্ষের ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে অফিস উদ্বোধন না করেই ফিরে যান বিধায়ক। বিজন মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও উত্তর দেননি।
জামুরিয়া থানার বীরকুলটি গ্রামে ১৯ জুন একটি দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ও বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়। সভাপতি পিনাকী রায় ও শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ দেবকুমার মুখোপাধ্যায় সহ আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা সেই সময় উপস্থিত ছিলেন। মাসখানেক পরে বিজেপির আরেকটি গোষ্ঠী ওই পার্টি অফিসের পাশে নতুন একটি পার্টি অফিস খোলার উদ্যোগ নেয়। রবিবার তারই উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন বিধায়ক। পিনাকী রায় বলেন, ৪ মে’র পর যেসব তৃণমূল কর্মী তৎকাল বিজেপি হয়েছে, তাদের নেতৃত্বে নতুন পার্টি অফিস খোলা হয়েছে। পুরানো কর্মীরা ক্ষুব্ধ। নতুন পার্টি অফিসের মূল উদ্যোক্তা আদিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি এখানকার সবচেয়ে পুরানো বিজেপি কর্মী। অথচ আমাকে মারধর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জামুরিয়া ব্লকের বীরকুলটি অবৈধ কারবারের কেন্দ্র। তৃণমূলের আমলে এখানে গজিয়ে উঠেছিল একের পর এক অবৈধ স্টোন ক্রাশার। এছাড়াও অবৈধ বালি ও কয়লা কারবারের নিয়ন্ত্রণ এখান থেকেই হয়। এলাকার নিয়ন্ত্রণ পেতে সব পক্ষই মরিয়া।