অমিয়কুমার বিশ্বাস, কৃষ্ণনগর: আন্দামানের উদ্দেশ্যে ডাকবিভাগের মাধ্যমে চিঠি বা পার্সেল পাঠিয়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। কখনও সেই অপেক্ষা গড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় দু’মাসে। ফলে সময়মতো পার্সেল না পৌঁছনোয় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছনোর কথা থাকলেও দেরির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পার্সেল পৌঁছচ্ছে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর। এতে যেমন বাড়ছে ভোগান্তি, তেমনই পার্সেলের সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিস থেকে আন্দামানের উদ্দেশ্যে পার্সেল পাঠানো এক গ্রাহকের অভিজ্ঞতাতেও উঠে এসেছে দীর্ঘ অপেক্ষার এই ছবি। প্রিয়া ছন্দা নামে এক মহিলা কৃষ্ণনগর হেড পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আন্দামানে একটি পার্সেল বুক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই পার্সেল গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লেগেছে ৫০ দিনেরও বেশি। এত দীর্ঘ সময় ধরে পার্সেলের জন্য অপেক্ষা করতে হওয়ায় রীতিমতো বিরক্ত তিনি। তাঁর কথায়, এতদিন সময় লাগলে পার্সেলের ভিতরে থাকা সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকেই। তাই পরিষেবাটি নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন। ডাকবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে আন্দামানের উদ্দেশ্যে পাঠানো পার্সেলের একটি বড় অংশ জাহাজের মাধ্যমেই পরিবহণ করা হচ্ছে। কলকাতা থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জাহাজ ছাড়ে। বর্তমানে মাসে মাত্র দু’বার জাহাজ ছাড়ার কারণে পার্সেল পরিবহণের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষা। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঠানো পার্সেল কলকাতায় পৌঁছনোর পর নির্দিষ্ট জাহাজের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে সেগুলি দিনের পর দিন জমে থাকছে কলকাতার সংশ্লিষ্ট অফিসে।
কৃষ্ণনগর ডাকবিভাগের পক্ষ থেকে আরও জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর থেকে পার্সেল দ্রুতই কলকাতার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হলেও মূল সমস্যা এরপর তৈরি হচ্ছে। কলকাতা থেকে আন্দামানের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছাড়ার নির্দিষ্ট দিন না আসা পর্যন্ত পার্সেল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতায় পৌঁছনোর পরও পার্সেলগুলিকে ফেলে রাখতে হচ্ছে। এরপর জাহাজ ছাড়ার পরেও আন্দামান পৌঁছতে আরও কিছুটা সময় লাগছে। সব মিলিয়ে কৃষ্ণনগর থেকে বুক করা একটি পার্সেল গন্তব্যে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ডাক বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার জন্যই দেরি হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।