সংবাদদাতা, করিমপুর: গত দু’সপ্তাহে করিমপুরে পর পর দুর্ঘটনায় ৪ মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পথ নিরাপত্তা। টোটো অটোর ভিড় এবং বেপরোয়া যান চলাচলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তায় বেরোলেই যেন মৃত্যুর আশঙ্কা! গত দু’সপ্তাহে করিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় পর পর পথ দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অনেকে। কখনও লরি, কখনও পিকআপ ভ্যান, আবার কখনও বাসের ধাক্কায় প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। একের পর এক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? দুর্ঘটনা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপই বা কোথায়? জানা গিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর মুরুটিয়ার দাসপাড়ায় নিজের স্কুটারে স্কুলে যাওয়ার সময় পাটবোঝাই একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় ৩৭ বছরের এক শিক্ষিকার। পরদিনই একই এলাকায় লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয় খানপুরের বাসিন্দা বিজয় দত্তের (প্রায় ৬০)। সাইকেলে করে বালিয়াডাঙ্গা হাটে পান বিক্রি করতে যাওয়ার সময় পিছন থেকে লরি তাঁকে ধাক্কা দেয়। লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাজিতপুরের কাছে করিমপুর-কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়কে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক সাইকেল আরোহী বৃদ্ধের। তার পরেও একাধিক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার নতিডাঙা মোড়ে বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে রামকৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মণ্ডলের (৪৪)। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে স্ত্রী সেলিনা বিবিকে মোটরবাইকে চাপিয়ে বাড়ি ফেরার সময় করিমপুর থেকে কলকাতাগামী একটি বাস তাঁদের মোটরবাইকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম সেলিনাকে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে বাইরে রেফার করা হয়েছে। তিনি বাথানপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা। পুলিশ বাসটি চালক সহ আটক করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতির বড় গাড়ির পাশাপাশি টোটো, অটো ও মোটরবাইকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। পুজোর আগে বাজার ও রাস্তায় মানুষের ভিড়ও বেড়েছে। তার মধ্যে বিকট শব্দে দ্রুতগতিতে ছুটছে বাইক। করিমপুর বাজারে যানজট কমাতে একমুখী যান চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হলেও বর্তমানে তা কার্যত মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। পর পর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার পরে পুলিশি তৎপরতা বা শোকপ্রকাশ যথেষ্ট নয়। বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, যানজট মোকাবিলা এবং নিয়মভাঙার বিরুদ্ধে নিয়মিত কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরাপদে রাস্তায় চলার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে এবার স্থায়ী পদক্ষেপ করতে হবে। এব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক জানান, বহুবার সচেতন করা হয়েছে। এবার দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।



