নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ৪ মে’র আগে তাঁদের অনেককে কেউ চিনতেন না। অন্তত বিজেপির আদি কর্মীদের দাবি তেমনই। বুথের লড়াইয়ে ছিলেন না। দলের কর্মসূচিতে ছিলেন না। আন্দোলনের ময়দানেও দেখা যায়নি তাঁদের। অথচ সরকার গঠনের পর আচমকাই বদলে গিয়েছে ছবি। এখন তাঁরা বিজেপির ‘পরিচিত’ মুখ। কারও ফেসবুক প্রোফাইলে বিধায়কের সঙ্গে ছবি। কারও হোয়াটসঅ্যাপে একই ফ্রেমের ছবি স্ট্যাটাসে। আবার কারও পোস্ট জুড়ে প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রদর্শন। সেই ছবিকেই অস্ত্র বানিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার অন্দরে এখন নতুন উদ্বেগের নাম— ‘ছবি বিজেপি’।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বারাসত, হাবড়া এবং অশোকনগর বিধানসভায় জয় এসেছে বিজেপির ঝুলিতে। দেগঙ্গা, মধ্যমগ্রাম এবং আমডাঙায় তৃণমূল জিতলেও ব্যবধান ছিল সামান্য। তার উপর রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ‘পদ্ম’ শিবির। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। সেই বদলের হাওয়ায় ভেসেই এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি নিজেদের বিজেপির মুখ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন বলে খবর। বিজেপি নেতাদের কথায়, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় এমন অনেক মুখ সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যাঁদের রাজনৈতিক অতীত খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু তাঁদের দাবি, তাঁরা বিজেপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সেই দাবির সপক্ষে প্রমাণ একটাই, সংবর্ধনা দেওয়ার সময় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি। অভিযোগ, সেই ছবি দেখিয়েই বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের ‘দলের লোক’ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। কোথাও স্থানীয় স্তরে দাপট দেখানোর অভিযোগ, কোথাও আবার রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে গুরুত্ব আদায়ের চেষ্টা। তাতেই অস্বস্তি বাড়ছে সংগঠনের ভিতরে। দলীয় সূত্রে দাবি, এখন বিজেপির চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে বিজেপির সঙ্গে ছবি। একটা ছবি থাকলেই অনেকে মনে করছেন রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গিয়েছেন। যাঁরা কঠিন সময়ে ছিলেন না, তাঁরাই এখন সবচেয়ে বেশি বিজেপি সাজার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন নব নির্বাচিত বিধায়করা। কারণ বিভিন্ন কর্মসূচিতে মানুষের সঙ্গে ছবি তুলতে হয় তাঁদের। পরে সেই ছবিই যখন রাজনৈতিক প্রভাবের অস্ত্র হয়ে ওঠে, তখন বিপাকে পড়তে হয় নেতৃত্বকে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিও নেতার সঙ্গে নিজের ছবি দেখিয়ে ঘনিষ্ঠতার দাবি করছেন। ফলে এখন বারাসত জেলায় বিজেপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ— প্রকৃত কর্মী আর ‘ছবি ভরসার কর্মী’র মধ্যে সীমারেখা টানা। এনিয়ে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজনীতিতে ছবি তোলা সহজ। কিন্তু ছবি তুলে বিজেপি হওয়া যায় না। কোথাও ছবি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।