শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নজিরবিহীনভাবে বদলে গেল এগরা পুরসভার রাজনৈতিক সমীকরণ। অনাস্থার মুখে পড়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যানকে খোলাখুলি সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। চেয়ারম্যান স্বপনকুমার নায়েককে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের পাঁচ কাউন্সিলার। শুধু তাই নয়, ওই পাঁচ কাউন্সিলার, কংগ্রেসের একমাত্র কাউন্সিলার এবং চেয়ারম্যান গত ৯ ডিসেম্বর জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক ও থানায় চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা চেয়েছেন। আগামী ২০ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় এগরা পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে ভোটাভুটি হবে। তার আগে তৃণমূল কাউন্সিলারার তাঁদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এগরা পুরসভার মোট ১৪ জন কাউন্সিলার। তারমধ্যে তৃণমূলের সাতজন, বিজেপির পাঁচজন, নির্দল একজন এবং কংগ্রেসের একজন। ২০২২ সালে ১৬ মার্চ নির্দল কাউন্সিলার রামচন্দ্র পণ্ডার সমর্থন নিয়ে তৃণমূল বোর্ড গঠন করেছিল। কংগ্রেস কাউন্সিলার নির্মলকুমার শীট ভোটদানে নিরপেক্ষ ছিলেন। এই মুহূর্তে তৃণমূলের ছ’জন অনাস্থা এনেছেন। বিজেপির পাঁচ কাউন্সিলার চেয়ারম্যানকে সমর্থন দেবেন বলে তাঁকে চিঠি দিয়েছেন। নিজেদের সিল ও সই করা সেই চিঠি ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কংগ্রেস কাউন্সিলারও সুরক্ষার স্বার্থে বিজেপির পাঁচজন কাউন্সিলারের সঙ্গে একযোগে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ আরও বেড়েছে। গত ৬ নভেম্বর রাজ্যে একঝাঁক পুরসভার চেয়ারম্যান বদল করে তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক এবং এগরা পুরসভার চেয়ারম্যানদের ইস্তফা দিতে বলা হয়। তমলুকের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারপার্সন ইস্তফা দিলেও এগরার চেয়ারম্যান ইস্তফা দিতে চাননি। এই অবস্থায় ২০ নভেম্বর শাসক দলের ছয় কাউন্সিলার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। সেই অনাস্থা কপিতে চেয়ারম্যান অবৈধ ও অনৈতিক কাজে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অনাস্থার বিষয়বস্তু নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন স্বপনবাবু। উচ্চ আদালত সেই অনাস্থা খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি ফের অনাস্থা আনতে বাধা নেই বলেও হাইকোর্ট নির্দেশে জানিয়ে দেয়। এরপর ৬ ডিসেম্বর ফের তৃণমূলের ছয় কাউন্সিলার স্বপনবাবুর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। এনিয়ে আগামী ২০ ডিসেম্বর বিশেষ সভা ডাকা হয়েছে। সেই সভায় একমাত্র অ্যাজেন্ডা হিসেবে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর অনাস্থা নিয়ে ভোটাভুটি চূড়ান্ত হতেই চেয়ারম্যানকে বিজেপির সমর্থনের চিঠি সামনে চলে আসে। তা নিয়ে এগরায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্যে করে গেরুয়া পার্টির কাউন্সিলাররা ওই চিঠিতে জানিয়েছেন, শাসকদলের দুই কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতি এবং জয়ন্ত সাউ তাঁদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এনিয়ে ৯ ডিসেম্বর জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন মহলে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বর্ষীয়াণ নেতা স্বপনবাবু সহ সাত কাউন্সিলার। তাতে বিজেপির পাঁচজন এবং কংগ্রেসের একমাত্র কাউন্সিলারও সই করেছেন। এই বিষয়টি আরও বেশি তোলপাড় ফেলেছে।
স্বপনবাবু বলেন, আগামী ২০ ডিসেম্বর অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে ভোটাভুটি হবে। সেই ভোট ঘিরে যাতে ঝামেলা না হয় সেজন্য আমি জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং থানায় চিঠি দিয়েছি। পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অম্বিকেশ দাস বলেন, অনাস্থা ভোটে আমাদের অবস্থান কী হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত নয়। এগরা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জয়ন্ত সাউ বলেন, দলের নির্দেশ সত্ত্বেও স্বপনবাবু চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেননি। তাই দলের নির্দেশ মেনেই আমরা কাউন্সিলাররা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছি। আগামী ২০ ডিসেম্বর
ভোটাভুটি হবে।