নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মনোবল বাড়াতে এলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু মনোবল আর বাড়ল কই। দুর্গাপুজো চলে এলেও এখনও পর্যন্ত তৈরি হল না বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটি। কবে জেলা কমিটি তৈরি হবে তা নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি। তাই ক্ষোভে ফুঁসছেন জেলা বিজেপির নেতাকর্মীদের একাংশ। একান্ত আলাপচারিতায় নেতারা প্রশ্ন তুলছেন, জেলা সভাপতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক মাস কেটে গেলেও সংগঠন তৈরি হয়নি। সংগঠন মজবুত হবে কবে? একইসঙ্গে বিজেপির নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ থাকলেও, রাস্তায় নামছেন না। কিন্তু জেলা নেতৃত্বের ভ্রুক্ষেপ নেই। এক বিজেপি নেতার কথায়, বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশিদিন নেই। জুন মাস থেকে জেলা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা চলছে। আগস্ট মাস শেষ হতে চলল। কিন্তু জেলা কমিটি আর তৈরি হল না। ফলে নেতারা পুরনো পদ ব্যবহার করে চলছে। এতে নেতাকর্মীদের মনোবল তলানিতে এসে ঠেকছে। যদিও বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডল বলেন, জেলা কমিটি খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা করা হবে। আমাদের দলে নিয়ম মেনে কাজ হয়। শনিবার জেলায় রাজ্য সভাপতি আসায় সকলেই ভীষণ খুশি। উনি সকলের সঙ্গেই বিভিন্ন বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, এক সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিজেপির সংগঠন বাড়তে শুরু করেছিল। বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় পার্টি অফিস তৈরি হতে শুরু করে। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই গেরুয়া শিবিরের ছন্দপতন শুরু হয়। গত কয়েক বছরে বিজেপি একের পর এক নির্বাচনে হেরেছে। ঠিক কোন স্ট্র্যাটেজিতে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে জয় আসবে, তা বুঝেই উঠতে পারছেন না গেরুয়া বাহিনীর সদস্যরা। তারমধ্যে উচ্চ নেতৃত্বের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের জেরে তাঁরা দিশেহারা। পাশাপাশি, এখনও জেলা কমিটি গঠন না হওয়ায় সংগঠন নিয়ে হতাশ নিচুতলার নেতারা। বিজেপির এক নেতা বলেন, জেলায় এক সময়ে দিলীপ ঘোষের দাপট ছিল। কিন্তু ইদানিং দিলীপবাবুকে মেনে নিতে পারছেন না জেলার নেতাদের একাংশ। তবে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলায় পরপর দিলীপবাবুর ঘনিষ্ঠরা জেলা সভাপতির আসনে বসেছেন। যা দিলীপ বিরোধী শিবির একেবারেই মেনে নিতে পারেনি। এরফলে অনেকেই নতুন জেলা সভাপতিকে এড়িয়ে চলছেন। এমনকী জেলা পার্টি অফিসেও জেলা সভাপতি জান না। পুজোর আগে সংগঠন গোছাতে না পারলে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও হার নিশ্চিত।
মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, বিজেপি দলটাই তো উঠে যাবে। সামনের নির্বাচনে জেলা থেকে একটা আসনও বিজেপি জিততে পারবে না। বাংলার প্রতি বঞ্চনা মানুষ দেখছেন। যাঁরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন, তাঁদের মানুষ পছন্দ করে না।