সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া শহর সহ ১০টি মণ্ডলের এখনও সভাপতিদের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি। ওই এলাকাগুলির মধ্যে অধিকাংশ জায়গায় বিজেপির বিধায়ক রয়েছে। তারপরেও দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্বের জেরেই ওই এলাকাগুলিতে মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পুরুলিয়ার ২৬টি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে বিজেপি। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলার মোট ৩৬টি মণ্ডল রয়েছে। ২৬ জনের তালিকা প্রকাশ করার পর প্রায় এক মাসেরও বেশি পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বাকি এলাকাগুলিতে মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণা করতে পারেনি দলীয় নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে। বিবেক রাঙার জায়গায় দল নতুন জেলা সভাপতি করেছে ঝালদা এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর মাহাতকে। তিনি আগে দলের পুরুলিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। জেলা রাজনীতিতে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত শঙ্করবাবু। জেলা সভাপতি বদলের পর মণ্ডল সভাপতিদের নাম নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। বলরামপুর বিধানসভা এলাকায় মোট পাঁচটি মণ্ডল রয়েছে। তারমধ্যে শুধুমাত্র ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। বলরামপুরের বাকি চারটে মণ্ডলেরই সভাপতিদের নাম ঘোষণা থমকে রয়েছে। বিজেপির বিধায়ক থাকা জয়পুরে তিনটে, পাড়ায় দু’টি এবং পুরুলিয়া শহরেরও মণ্ডল সভাপতির আসন বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। মানবাজারেও দু’টি মণ্ডলের সভাপতির নাম এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি দলের জেলা নেতৃত্ব। বলরামপুরের বাসিন্দা জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, বাকি ১০টি জায়গায় মণ্ডল সভাপতি পদে কাদের বসানো হচ্ছে, তা দেখেই আগামী দিনে নতুন জেলা সভাপতির দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বোঝা যাবে। সংগঠনকে চাঙ্গা করতে গেলে ওই এলাকাগুলিতে সভাপতি পদে নতুন মুখ খুবই জরুরি।
জেলা বিজেপির সভাপতি শঙ্করবাবু বলেন, কোনও দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনও বিষয়ই নেই। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলায় যে ১০টি মণ্ডলে সভাপতির নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে, তা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। তবে সংগঠনের কাজ তো আর থমকে নেই। রুটিন কার্যক্রম চলছেই। ওই ১০টি জায়গায় নতুন মুখ আসবে কি? সেই বিষয়ে আগাম কোনও মন্তব্য করতে চাননি জেলা সভাপতি। তিনি বলেন, সব দিক বিচার করেই দল নাম চূড়ান্ত করবে।