সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার বিজেপির জেলা নেত্রীর অশ্লীল ভিডিও ও স্টিল ছবি ভাইরাল করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বজরং দলের এক সক্রিয় কর্মী। রাজেশ সাহা নামে ওই কর্মীকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর থেকে পাকড়াও করে আনে কাটোয়া থানার পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় গোটা কাটোয়া। চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। অনেকেই মনে করছেন, এটা বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের জের। সুযোগ পেয়ে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, মহিলাদের সম্মান করতে জানে না নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের দল। পুলিশ জানিয়েছে ধৃত রাজেশকে বুধবার কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে ৩ দিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে সামাজিক মাধ্যমে ‘বর্ধমান বাঁচাও’ নামে একটি গ্রুপ থেকে ছবি ও ভিডিওটি ভাইরাল হয়। ‘ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনি’ ক্যাচ লাইন দিয়ে সেগুলি পোস্ট করা হয়। পরে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। (বর্তমানে ভাইরাল হওয়া স্টিল ছবির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) শুধু তাই নয়, ওই পোস্টের সঙ্গে কাটোয়ার বাসিন্দা বিজেপির ওই জেলা নেত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। যা দেখে রাজনৈতির মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপির অন্দরে নানা সময়ের গোষ্ঠী কোন্দলেরই ফসল এই নোংরামি। গত, ১৬ জুলাই কাটোয়া থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ জানান ওই বিজেপি নেত্রী। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটি তাঁর শ্লীলতাহানির শামিল। তাঁর যুক্তি, শ্লীলতাহানি শারীরিক ভাবেই হয় না। সমাজমাধ্যমে একজন মহিলার ছবি ‘এডিট’ করে ছড়িয়ে দেওয়াও শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহের মধ্যেই পড়ে।
সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হতে মুখ খুলেছেন ওই বিজেপি নেত্রী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। তবে, ধৃত কোনওভাবেই আমাদের দলের কর্মী হতে পারে না। আমি রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকেও গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। যাকে পুলিশ ধরেছে সে আসলে আইপ্যাকের কর্মী।’ এদিকে, ঘটনাটিকে নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তৃণমূল। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি নেতারা মহিলাদের উপর নির্যাতন নিয়ে বড় বড় কথা বলে। অথচ, তাঁদের হাতেই মহিলারা নিরাপদ নন। আসলে, ওঁরা বাংলার মহিলাদের সম্মান করতে জানেন না। সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল দলেরই নেত্রীর অশ্লীল ছবি ভাইরাল করে।’
বিজেপি নেত্রীর তরফে অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। আইএমইআই নম্বর ধরে ভাইরাল হওয়া পোস্টটির পরীক্ষা করা হয়। সেখানেই উঠে আসে যে মোবাইলটি থেকে পোস্টটি ভাইরাল হয়েছিল, সেটা ধৃত রাজেশ সাহার নামে রয়েছে। মোবাইলটি নিজের বলে স্বীকারও করে নিয়েছেন রাজেশ। এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি নিজেকে বজরং দলের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তাতেই কাটোয়ার রাজনীতি তেতে ওঠে। পুলিশ ধৃতের মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করেছে। সেটা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
গোটা ঘটনায় অস্বস্তি বাড়ছে দেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে বিজেপির সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসু। তিনি এদিন বলেন, ‘সবকিছুতেই রাজনীতি খোঁজা তৃণমূলের স্বভাব। তবে, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আইন আইনের পথেই চলবে’ সূত্রের খবর, কাটোয়ায় ভাইরাল হওয়া বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে দলেরই একাংশের মতবিরোধ এখন চরমে। ভাইরাল হওয়া ছবির সঙ্গে যে লেখা রয়েছে, তার ছত্রে ছত্রে সেই দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। নেত্রী সহ প্রাক্তন এক জেলা নেতা ও এক কার্যকর্তার নাম করে বলা হয়েছে, ‘এরা তিনজনে প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে বিজেপিটাকে শেষ করে দিচ্ছে।’ বছর ঘুরলেই ভোট। তার আগে দলের অন্তর্কলহের ছবি এভাবে প্রকাশ্যে এসে পড়ায় বিজেপিকে খেসারত দিতে হবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।