Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অগ্নিমিত্রার বিধানসভা কেন্দ্রের সব বুথে বিএলএ নেই বিজেপির

একসময় তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার। তাঁর তৈরি পোশাকে মঞ্চ মাতিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শ্রীদেবী।

অগ্নিমিত্রার বিধানসভা কেন্দ্রের সব বুথে বিএলএ নেই বিজেপির
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: একসময় তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার। তাঁর তৈরি পোশাকে মঞ্চ মাতিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শ্রীদেবী। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোটে জয়লাভ করেন। বিজেপি পুরস্কার হিসেবে তুলে দেয় রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদিকার পদ। সেই থেকে কথায় কথায় কোনও স্থানীয় ইশ্যুতেও রা঩জ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন বিজেপি নেত্রী। নেত্রী রণহুঙ্কার দিলেও আদৌ কি নিজের বিধানসভা এলাকায় সংগঠন মজুবত করতে পেরেছেন? তাঁর বিধানসভা এলাকাতেই বিজেপি সব বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করতে না পারায় সেই প্রশ্নই জোরালোভাবে সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রশাসন বিএলএ-২’এর যে তালিকা দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় ৩০২টির মধ্যে বিজেপি ২৭০টি বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করতে পেরেছে।

Advertisement

শুধু অগ্নিমিত্রা নয়, একই অবস্থা বিজেপির আরএক বিধায়ক অজয় পোদ্দারের নিজস্ব বিধানসভা ক্ষেত্র কুলটিতেও। বিজেপি সেখানে ২৭০টির মধ্যে ২৪২টি বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করতে পেরেছে। বাকি বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ এখনও হয়নি। পাঁচ বছর নিজেদের বিধায়ক থাকার পরও কি বিজেপি আসানসোল দক্ষিণ ও কুলটির সব বুথে সংগঠন মজবুত করতে পারেনি? সেই প্রশ্নই এবার সামনে এসেছে। 
শুধু এই দু’টিতেই নয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বেশিরভাগ বিধানসভাতেই সব বুথে বিএলএ দিতে পারেনি মোদি-শাহর দল। পাণ্ডবেশ্বরে ২৩৯টির মধ্যে মাত্র ১৫৬টি বুথে বিজেপি বিএলএ-২ দিতে পেরেছে বলে প্রশাসনিক তথ্য থেকে সামনে এসেছে। তেমনি রানিগঞ্জের ২৮৬টির মধ্যে ১৬৮টি বুথে, আসানসোল উত্তরের ৩০৭টির মধ্যে ১৯৮টি বুথে, বারাবনির ২৫৪টির মধ্যে ১৬১টি বুথে, জামুড়িয়ার ২৪৯টির মধ্যে ১৪৭টি বুথে বিজেপি বিএলএ-২ নিয়োগ করতে পেরেছে। দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই বিধানসভা এলাকার সব বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করতে পেরেছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস জেলার ২৫০৪টি বুথেই বিএলএ-২ নিয়োগ করেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলএ-২’এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিএলও’র সঙ্গে বিএলএ’রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই প্রক্রিয়া সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পারেন। কোনও অনিয়ম মনে হলে প্রতিবাদ করতে পারেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, রাজ্যে বহু ভুয়ো ভোটার রয়েছে। সেই ভুয়ো ভোটার ধরার ক্ষেত্রেও বিএলএ-২ বড় ভূমিকা নিতে পারত। এহেন গুরুত্বপূর্ণ পদেই কেন বিজেপি সব বুথে বিএলএ-২ দিল না, সেই প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পাঁচ বছর পরও সেই এলাকার প্রতিটি বুথে যে বিজেপি বিধায়ক সংগঠন গড়তে পারেননি, এটি তার বড় উদাহরণ। কেন তাঁর বিধানসভা এলাকায় সব বুথে বিএলএ-২ নিয়োগ করা গেল না, এই প্রশ্ন নিয়ে ফোন করা হলেও অগ্নিমিত্রা পল ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও কোনও উত্তর দেননি। অজয় পোদ্দারও ফোন কেটে দেন। যদিও বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক তাপস রায় বলেন, তথ্য ভুল আছে। আমরা আরও কিছু বুথে বিএলএ-২ দিয়েছি।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, বিজেপি এখানে মিডিয়াকে নিয়ে রাজনীতি করে। অগ্নিমিত্রাকে এলাকার মানুষ দেখেননি। ওঁর কোনও সংগঠন নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ