Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমবায়ে ‘সেটিং’, তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি বিজেপি, বাঁকুড়ার দলীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষুব্ধ গেরুয়া কর্মীরা

বাঁকুড়ায় সমবায় পরিচালন সমিতির নির্বাচনে পরপর তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সিংহভাগ জায়গায় প্রার্থী দিতে পারছে না।

সমবায়ে ‘সেটিং’, তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি বিজেপি, বাঁকুড়ার দলীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষুব্ধ গেরুয়া কর্মীরা
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় সমবায় পরিচালন সমিতির নির্বাচনে পরপর তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সিংহভাগ জায়গায় প্রার্থী দিতে পারছে না। ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের নিচুতলায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। দলের নেতাদের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে প্রার্থী দিচ্ছে না বলে কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি সিমলাপালের মণ্ডলগ্রাম অঞ্চলের একটি সমবায়ে ভোট ছিল। সেখানে তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালন সমিতির ছ’টি আসনে জয় পায়। তারপর থেকেই কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। 

Advertisement

সিমলাপালের মণ্ডলগ্রাম অঞ্চলের বড়িচ্যা এলাকার বিজেপি কর্মী তথা প্রাক্তন শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ প্রশান্ত আশ বলেন, বর্তমান ব্লক নেতৃত্ব তৃণমূলের হাতে তামাক খাচ্ছে। ওইসব নেতারা শাসক দলের সঙ্গে সমঝোতা করেই সমবায়ের ভোটে প্রার্থী দেননি। ফলে আমাদের গ্রামের একটি সমবায়ে তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে। নেতারা নিজেদের আখের গুছিয়ে দলকে রসাতলে পাঠাচ্ছেন। 
সিমলাপালের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি সৌভিক পাত্র বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। জন্মাষ্টমীর ছুটির দিনে তৃণমূল মনোনয়ন পেশ করেছে। আমরা মনোনয়ন পেশের দিনক্ষণ জানতে পারিনি। এর আগে সিমলাপাল ও লক্ষ্মীসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দু’টি সমবায়েও গোপনে তৃণমূল মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। তার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম। এবার পুলিস ও প্রশাসনের কাছে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হচ্ছে। 
তালডাংরার বিধায়ক ফাল্গুনি সিংহবাবু বলেন, সিমলাপালের লায়েকপাড়ার একটি সমবায়ের ভোটে আমরা ৮-১ ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়েছিলাম। ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার ভয়ের বিজেপি আর লড়াই করছে না। নোটিস বোর্ডে পরিচালন সমিতির ভোটের ব্যাপারে বিস্তারিত দেওয়া থাকে। মনোনয়ন পেশের দিনে বিজেপি না এলে আমরা কী করতে পারি? বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করার মতো দুরবস্থা আমাদের হয়নি। 
উল্লেখ্য, সিমলাপালের পাশাপাশি বাঁকুড়া-২, বড়জোড়াতেও তৃণমূল সম্প্রতি একাধিক সমবায়ে বিনা লড়াই জয় পেয়েছে। কিছু জায়গায় বামেরা মনোনয়ন জমা করলেও বিজেপিকে ময়দানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে জয় পাওয়ার ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে। উল্টোদিকে নিজেদের গড়ে মনোনয় জমা দেওয়ার জন্য গুটিকয়েক লোক খুঁজে না পেয়ে বিজেপি শিবির মুষড়ে পড়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, নেতাদের দোষেই প্রার্থী দেওয়া যায়নি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। দলের নেতারা শাসক দলের সঙ্গে আঁতাত করেই তাঁদের লড়াই করার সুযোগ করে দিচ্ছেন না।
সম্প্রতি জেলা কমিটি ঘোষণা নিয়ে বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের জোর দ্বন্দ্ব হয়। রানিবাঁধ, খাতড়া সহ একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মীরা জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। রানিবাঁধের বিজেপি কার্যালয়ে কর্মীরা তালা ঝুলিয়ে দেন। নামিয়ে দেওয়া হয় দলের ঝান্ডা। ওই ঘটনার পর থেকে বাঁকুড়ার বিজেপি নেতারা জঙ্গলমহেল যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সঙ্গে জেলা নেতারা নানাভাবে কথাবার্তা চালানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাতে চিঁড়ে ভিজবে না বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। ওই ক্ষোভের আগুন নেভার আগেই সমবায় নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার নিয়ে ফের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় বিজেপি নেতৃত্ব সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে। বিধানসভা ভোটের আগে যা গেরুয়া শিবিরকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ