অভিষেক পাল, বহরমপুর: বিধানসভা ভোটের দেড় মাসের মধ্যে বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের ভাঙনে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টায় রয়েছে কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদের অনেকেই রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখায় হাত শিবিরে যোগদানের পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অধীর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তৃণমূলের অনেক নেতা-নেত্রী। আর সেটা সফল হলেই মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক সমীকরণ বদল যেতে পারে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা দিল্লি গিয়েছেন। তিনি দিল্লি সফর সেরে মুর্শিদাবাদ ফিরলেই লাগাতার যোগদান কর্মসূচি হতে পারে বলেই জল্পনা।
অধীরবাবুও এদিন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী রয়েছেন, যাঁরা দলের জন্য বুথে বুথে ভোট করেছেন, মার খেয়েছেন এবং এখনও তৃণমূলকে ভালবাসেন, তাঁদের বলছি, আপনাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সবসময় খোলা। আপনারা আসুন। আলোচনা করে আমরা আগামীদিনে বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলব। বাংলায় বাকি বিরোধী দলগুলিকে একজোট করে একটা মঞ্চ তৈরি করে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। না হলে বাংলায় সুস্থ রাজনীতি বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলছিল তৃণমূলের অন্দরে। ধীরে ধীরে অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু, এই কঠিন সময়েও জয়ী হওয়া জনপ্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। আর বিধানসভার বিরোধীদল তৃণমূল হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়াই! এই আবহে তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীরা অঙ্ক কষছে। তাঁদের মধ্যে ঘোর বিজেপি বিরোধী তৃণমূলের নেতারা কংগ্রেসে গিয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে তৎপর বলে মনে করা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের ২২ আসনের মধ্যে ন’টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। মুর্শিদাবাদ জেলার আট তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করছেন। যা নিয়ে জেলায় তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সম্প্রতি তৃণমূলের একাংশের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে নতুন পরিষদীয় দল। নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত। প্রথমবার বিধায়ক হওয়া জলঙ্গির বাবর আলি একমাত্র এই দলে শামিল হননি। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেছেন।
তৃণমূলের এই সঙ্কটকালকে রাজনীতিতে মোক্ষম সুযোগ ধরে মমতাকে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। ভোটের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, আগেভাগে ফোন করে নানারকম প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে তাঁর দলের প্রার্থীদের। আর এখন নিজেরাই ভেঙে খানখান। অধীরবাবু বলেন, ‘যে দলবদলের খেলা একদিন আপনারা শুরু করেছিলেন, যার আম্পায়ার এবং রেফারি ছিলেন আপনারা। আজ ঠিক সেই একই খেলা উল্টো দিকে চলছে। শুধু রেফারি আর আম্পায়ার বদলে গিয়েছে।’ ফাইল চিত্র