Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় বালি ১২০০ টাকা হলে পুরুলিয়ায় কেন দু’হাজার? প্রশ্ন

বাঁকুড়ায় ট্রাক্টর প্রতি বালির দাম ১২০০ টাকা, পুরুলিয়ায় ২০০০ টাকা কেন? সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ও প্রশাসনিক বৈঠকের খবর। বিস্তারিত পড়ুন।

বাঁকুড়ায় বালি ১২০০ টাকা হলে পুরুলিয়ায় কেন দু’হাজার? প্রশ্ন
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: বাঁকুড়ায় ট্রাক্টর পিছু বালির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০০ টাকা। পুরুলিয়ার বিভিন্ন বালিঘাটে একই পরিমাণ বালির জন্য ১৯০০ থেকে কোথাও ২০০০ টাকা ধার্য হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। পাশের জেলার সঙ্গে দামের এই পার্থক্য কেন, প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষজন। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, দিন দুয়েক আগে মানবাজার-১ ও পুঞ্চা ব্লকের বালিঘাট ইজারাদারদের নিয়ে প্রশাসনিক আলোচনা হয়। সেখানে বিজেপি জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মানবাজার এলাকার ঘাটগুলিতে সাধারণ মানুষের জন্য ট্র্যাক্টর প্রতি বালির মূল্য ২০০০ টাকা এবং পুঞ্চা এলাকায় ১৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তারপর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাঁকুড়ায় যেখানে ট্রাক্টর প্রতি ১২০০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে পুরুলিয়ায় কেন এত বেশি দাম ধার্য করা হল?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কংসাবতী নদী থেকে বালি উত্তোলন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি তৈরির জন্য চড়া দামে বালি কিনতে হয়েছে। ওই বালি বড়ো বড়ো ট্রাকে করে জেলার বাইরে পাঠানো হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে অনেক ক্ষেত্রে এক ট্রাক্টর বালির জন্য ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত। তার সঙ্গে লোডিং চার্জ এবং পরিবহণ ব্যয় যোগ হয়ে ট্রাক্টর প্রতি বালির প্রকৃত দাম ৪৮০০ থেকে ৫০০০ টাকায় পৌঁছে যেত। যদিও কয়েকদিন ধরে মানবাজার ঘাটগুলি বন্ধ আছে। সেগুলি চালু হলেই বোঝা যাবে এলাকার মানুষ কত দামে বালি পাচ্ছে।
নতুন মূল্য নির্ধারণের পর ঘাটে বালির মূল দাম কিছুটা কমলেও তার সঙ্গে লোডিং চার্জ ও কেয়ারিং কস্ট যুক্ত হবে। লোডিং প্রায় ৬০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ যোগ করলে সাধারণ মানুষের হাতে এক ট্রাক্টর বালির দাম এখনও সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সরকারি আবাস প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি নির্মাণের স্বার্থে বালির দাম আরও কমানোর দাবি উঠেছে। বাঁকুড়ার মডেল অনুসরণ করে পুরুলিয়াতেও বালির দাম ১২০০টাকার কাছাকাছি ঠিক করা উচিত।
ঘাট মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপির তরফে ১২০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘাট মালিকরা সেই প্রস্তাবে সম্মত হননি। পরে আলোচনার মাধ্যমে কোথাও ১৯০০ টাকা, কোথাও ২০০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সূত্রের দাবি, কয়েকটি ঘাটের মালিক কম দামে বালি বিক্রিতে আপত্তি জানানোর পরই এই মূল্য চূড়ান্ত হয়। 
এনিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বিজেপি নেতা জনপ্রিয় ঘোষ বলেন, বৈঠকে বালির একটি দাম নির্ধারণ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ১২০০ টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু, এখানকার ঘাট মালিকরা তা মানতে চাননি। অতীতে যে হারে ঘাট ইজারা নেওয়া হয়েছে, তাতে তাঁদের দাবি কম দামে ব্যবসা চালানো কঠিন। আমরা চাইনি কোনো অনিয়ম হোক। ভবিষ্যতে এই সরকারের আমলে ঘাটগুলি ইজারা দিলে সাধারণ মানুষ আরও কম দামে বালি পাবে। সিপিএমের মানবাজার বিধানসভা এলাকার কনভেনর ত্রিদিব চৌধুরী বলেন, ১০০ সেফটি বালির জন্য সরকারের প্রাপ্য রয়্যালটি আনুমানিক ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকার মধ্যে। সেখানে যদি ঘাটে ২০০০ টাকা করে নেওয়া হয়, তাহলে অতিরিক্ত অর্থ কোথায় যাচ্ছে? বাঁকুড়ায় ১২০০ টাকা হলে পুরুলিয়ায় ২০০০ টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দরকার।  বালি তোলা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ