নিজস্ব সংবাদদাতা, করিমপুর: করিমপুরের রাজনীতিতে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়লেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা নদীয়া উত্তর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহুয়া মৈত্র। এমনটাই মনে করছেন এলাকার রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে এই জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ তিনি কৃষ্ণনগরের সাংসদ সদস্য হলেও করিমপুরের ভোটার ছিলেন। দলের নদীয়া উত্তর জেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকায় করিমপুরের সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার করিমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন মহুয়া মৈত্র। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর করিমপুর কেন্দ্রে উপ নির্বাচন হয়। সেই উপ নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায় জয়ী হন। পরবর্তীকালে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি পুনরায় করিমপুরের বিধায়ক নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি প্রশাসনিকভাবে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হলেও মহুয়া মৈত্রের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ দীর্ঘদিন করিমপুর কেন্দ্রিক ছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাংসদ হওয়ার পরও তিনি করিমপুরের আনন্দপল্লি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তিনি করিমপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২০ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় তাঁর নামও তুলেছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে করিমপুরের তৎকালীন বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহরায়ের সঙ্গে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলীয় সূত্রের দাবি, দুই শিবিরের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে এবং তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়। একাধিকবার রাজ্যস্তরের নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের জেরেই এবার বিধানসভা নির্বাচনে দুই শিবিরই তাদের প্রত্যাশামতো প্রার্থী পায়নি। যদিও এনিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
তৃণমূলের স্থানীয় একাংশের বক্তব্য, মহুয়া মৈত্র করিমপুরের বাসিন্দা হিসেবে এবং নদীয়া উত্তর জেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকায় করিমপুরের সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, সম্প্রতি রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে সমস্ত জেলা, ব্লক ও অন্যান্য সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর কার্যত সেই রাজনৈতিক সম্পর্কেরও অবসান হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিজেপির করিমপুর মণ্ডল-২ সভাপতি নরোত্তম মণ্ডল জানান, তিনি বিধায়ক হিসাবে এখানে রাজনীতি করেছেন। এমনকি কৃষ্ণনগরের সাংসদ হলেও জেলা সভাপতি হিসাবে করিমপুরে তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপ ছিল। কিন্তু, এখন করিমপুরে ‘মহুয়া অধ্যায়ের’ অবসান হয়েছে। ফাইল চিত্র