নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গান্ধীজির জন্মজয়ন্তী তথা কেন্দ্রের ‘স্বচ্ছ ভারত’ কর্মসূচির দিনেই জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন—মেনে পারছেন না মোদি-শাহ। এবার বিক্ষোভ শুরু হবে মুম্বইতে। সেকথা ঘোষণা করেছেন সংগঠনের নেতা অভিজিৎ দিপকে। কিন্তু আগামী ২ অক্টোবর ডবল ইঞ্জিন মহারাষ্ট্রে সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। তাতে অবশ্য আন্দোলন থামবে না, রবিবার সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন ‘ককরোচ’ প্রধান দিপকে। এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করলে আগামী ২ অক্টোবরই মুম্বইয়ে জেল ভরো আন্দোলন শুরু হবে।’ সিজেপির এই বাড়বাড়ন্ত আদৌ ভালো চোখে দেখছে না দেশের শাসকদল বিজেপি। আর তাই জ্ঞানেশ-বিক্ষোভের আগেই রবিবার আর এক ডবল ইঞ্জিন রাজ্য অসমে ‘ককরোচ’দের ‘স্কুল ঠিক করো’ কমর্সূচি ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। সকালেই সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের পুলিশ। রাত পর্যন্ত তাঁদের মুক্তির খবর মেলেনি। কিন্তু কী কারণে তাঁদের আটক করা হল? উত্তর দিচ্ছে না পুলিশ। সোমবার সকালেই অসম যাওয়ার ঘোষণা করেছেন দিপকেও। সাফ বলেছেন, ‘কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না। পারলে আমাকে অসম বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার করুক পুলিশ।’ ফলে অসমেও জেন জি বিক্ষোভ মাথাচাড়া দেওয়া সম্ভাবনা চরমে।
রাতবিরেতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্রেন্ডস’ সম্ভাষণ কিংবা ভজন ক্লাবিংয়ে খঞ্জনি বাজানো কোনোটাই জেন-জির মন জয় করতে পারছে না। এতেই প্রবল দিশাহারা বিজেপি। এদিন দিল্লিতে প্রশ্ন করায় এক তরুণকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মেরেছেন রেখা গুপ্তা সরকারের এক মন্ত্রী। সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে সিজেপি ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে লিখেছে, ‘মোদি সরকার জেন জির কাছে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু আদতে কীভাবে, তা দেখুন। শুনে রাখুন, জেন জি জবাব চায়, হুমকি নয়।’ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি যেভাবে জোরালো হচ্ছে, তাতে বিপদ দেখছে কেন্দ্র। দমনমূলক ব্যবস্থা না নিয়েও কীভাবে ককরোচদের কব্জা করা যায়, সেই রাস্তা খুঁজছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারই প্রথম পদক্ষেপ কি দেখা গেল অসমে? উঠছে প্রশ্ন। কারণ, আশুতোষ রাঙ্কা বলেছিলেন, ‘অসমের বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, সেই পরিবারের সঙ্গেও কথা বলব।’ সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। আটকের কয়েক ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাঙ্কা অভিযোগ করেন, বৈঠকস্থলে যাওয়ার রাস্তা দু’দিক থেকে ব্যারিকেড করা হয়েছে। অসম পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিয়েও প্রস্তুত। তারপরই তিনি আটক হওয়ায় দিপকে সরাসরি অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে ছুঁড়েছেন প্রশ্ন— ‘এত কীসের ভয় হিমন্ত?’ ব্যক্তিগত জায়গায় শান্তিপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
নিট কাণ্ডের মতো জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতেও ‘ককরোচ’দের দিকে সমর্থনের হাত বাড়ানোর কথা এদিন জানিয়ে দিয়েছেন সোনাম ওয়াংচুক। লাদাখের পরিবেশ ও সমাজকর্মী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দীর্ঘদিন অনশন করেছেন। পরে দিল্লি পুলিশ তাঁকে ধরনামঞ্চ থেকে তুলে হাসপাতালে ভরতি করে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের হাত থেকে ফলের রস খেয়ে অনশন ভেঙেছিলেন তিনি। আবারও সেই সোনাম ককরোচ আন্দোলনের পাশে। বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে ‘ককরোচ’দের প্রতি। ফলে ব্যাপক অস্বস্তিতে মোদি-শাহ।