নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আশঙ্কা ছিলই। তা বাস্তবও হল।। দলের জেলা নেতৃত্বের পছন্দকে উপেক্ষা করেই প্রধানের কুর্শি ছিনিয়ে নিলেন হাঁসখালি ব্লকের ময়ূরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চায়না সরকার। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন ঘিরে সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত চলে নাটক। অবশেষে উপপ্রধান তথা তাঁর স্বামীর চালে বেসামাল বিজেপি। চাপে পড়ে কার্যত মুখ বুজেই চায়না সরকারকে কুর্শি তুলে দিতে হয় তাঁদের। ১ জুন কলকাতার নেতাজি ইন্ডোরে অমিত শাহের সভায় যোগ দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ময়ূরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপঙ্কর দাস। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর অবর্তমানে বিজেপি পরিচালিত ময়ূরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কুর্শি কার দখলে যাবে তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে শুরু হয় অন্তর্কলহ। নিজের স্ত্রী তথা উপপ্রধান চায়না সরকারকে প্রধান করতে কার্যত উঠেপড়ে লাগেন স্থানীয় বিজেপি নেতা জন্মেঞ্জয় সরকার। তাঁর বিপক্ষে ছিলেন আর এক বিজেপি সদস্য সমরেন্দ্র বিশ্বাস। কুর্শি নিয়ে দলের মধ্যে টানাপোড়েন ঠেকাতে জেলা কার্যালয়ে দু’ পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও করা হয়। বিজেপি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচনের আগে দলের পছন্দের নাম আসে মুখবন্ধ খামে। তা খুলে জানা যায়, তৃতীয় ব্যক্তি তথা বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি দেবপ্রসাদ কীর্তনিয়াকে প্রধান হিসাবে নির্বাচন করে পাঠিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। ব্যাস, এতেই শুরু হয় বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। নিজের স্ত্রীকে যেনতেন প্রকারেণ প্রধান করতে পাল্টা চাল দেয় জন্মেঞ্জয়। কারণ এদিকে, ১১ সদস্যের বিজেপি বোর্ডের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ৭ সদস্যের তৃণমূল তাঁকে সমর্থন দিতে রাজি ছিল। ফলে বিজেপি সদস্যদের একাংশ সূত্রেই খবর, তৃণমূলের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রীয়ের জন্য প্রধানের কুর্শি পেতে উদ্যত জন্মেঞ্জয়কে ঠেকাতে এবং বোর্ড নিজেদের হাতে রাখতে শেষমেশ তাঁর স্ত্রী চায়না সরকারকেই প্রধান হিসেবে সমর্থন করতে বাধ্য হন বিজেপির বাকি সদস্যরা। দলের তরফে যে দেবপ্রসাদের নামই প্রধান পদের জন্য এসেছিল তা নিজের বক্তব্যের স্বীকার করে নেন উপপ্রধান চায়না সরকার। তিনি বলেন, আমার দিকে সমর্থন বেশি ছিল তাই দেবপ্রসাদ হতে পারেনি। দল তাঁকে চেয়েছিল ঠিকই। কিন্তু ১১ জন বিজেপি সদস্যের মধ্যে আমার দিকে ৭ জন ছিলেন। তার জন্য আমিই হয়েছি। আমার সঙ্গে সমর্থন ছিল তাই দল অখুশি হবে না। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরও এক বিজেপি সদস্য বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়েই প্রধানের কুর্শি নেওয়া হয়েছে। দল দেবপ্রসাদকে চেয়েছিল। কিছু করার নেই। বোর্ড তৃণমূলের হাতে যাওয়ার থেকে ঠেকাতেই রাজি হয়েছি আমরা। যদিও শেষবেলায় দেবপ্রসাদ নয়, চায়না সরকারকেই প্রধান হিসেবে বাছা হয়েছিল বলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অপর্ণা নন্দী।। তিনি বলেন, আমরা চায়না সরকারকেই প্রধান করতে চেয়েছিলাম। উনি একজন মহিলা। সেই হিসেবে উনিই ছিলেন দলের পছন্দ। অন্য কারও নাম পাঠানো হয়নি।



