সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের এক মণ্ডল সভাপতিকে সরানোর দাবিতে নিজের বুথেই সরব হলেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা। সোমবার বিষ্ণুপুর গ্রামীণ মণ্ডল-১ এর সভাপতি অরিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে তাঁরা একত্রিত হন। ভড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ধরমপুর গ্রামে সভাপতির নিজের বুথেরই কর্মীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। সভাপতিকে দলের শত্রু এবং তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করা অযোগ্য ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে স্লোগানও দেন। ঘটনায় দলের নেতৃত্ব বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে।
অরিজিৎবাবু বলেন, দলের সক্রিয় কর্মীদের ভোটাভুটির মধ্যে দিয়ে আমি মণ্ডল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। তারপরেও কারও কোনও ক্ষোভ থাকলে তাঁরা দলের মধ্যেই আলোচনা করতে পারতেন। দলের সবাইকে তো আর পদ দেওয়া সম্ভব নয়। কয়েকজন পদের লোভে ওই সব করছে। আগামী দিনে তাদের সঙ্গে বসে এগুলি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।
চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় একাধিক মণ্ডল সভাপতির নাম প্রকাশ করা হয়। তারপরের দিনই বিষ্ণুপুর নগর মণ্ডল সভানেত্রীকে ‘মানছি না, মানব না’-বলে শহরে পোস্টার পড়ে। এবার বিষ্ণুপুর গ্রামীণ মণ্ডল-১ সভাপতির নিজের বুথেই প্ল্যাকার্ড নিয়ে দলের কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তাঁরা এদিন ধরমপুর গ্রামে বৈঠক করেন। তারপরেই প্রকাশ্যে বিক্ষোভ দেখান। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ছড়ায়। দলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় নেতৃত্ব বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে। বিক্ষোভকারী এক মহিলা কর্মী বলেন, অরিজিৎবাবু একজন অযোগ্য ব্যক্তি। উনি দলের কর্মীদের সম্মান করেন না। উনি পদে থাকায় দলের ক্ষতি হচ্ছে। উনি তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে সেটিং করে দলের ক্ষতি করছেন। আমরা তাঁকে মানব না। সেই জন্য এদিন আমরা বিক্ষোভে শামিল হয়েছি।
অরিজিৎবাবুর নিজের বুথ ধরমপুরের প্রাক্তন এক বুথ সভাপতি বলেন, অরিজিৎবাবু আমাদের কাঁধে ভর করেই পদ পেয়েছেন। কিন্তু, আমাদের কোনও সম্মান করেন না। আমরা শাসকদলের সঙ্গে লড়াই করে বুথ জিতিয়েছি। কিন্তু, উনি ভিতরে ভিতরে শাসকদলের সঙ্গে সেটিং করে দলকে হারানোর চেষ্টা করেছেন। আমাদের শত্রু তৃণমূল নাকি অরিজিৎবাবুর মতো বিজেপির নেতারা, এটা আমরা বুঝতে পারছি না। সামনেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই কোন্দল দলীয় নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দলের ফল খারাপ হবে বলে মনে করছে কর্মীদের একাংশ। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অমরনাথ শাখা বলেন, তৃণমূল থেকে কয়েকজন আমাদের দলে এসে বিশৃঙ্খলা পাকানোর চেষ্টা করছে। দল করতে চাইলে সকলকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। তবে আসন্ন ভোটে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।