সংবাদদাতা, মালদহ: ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘প্রতারণা’র অভিযোগ তুলল হিন্দু কমিউনিটি ট্রাস্ট নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার এই সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী এবং উদ্বাস্তু হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত নাগরিকদের আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কয়েক লক্ষ প্রান্তিক হিন্দু ভোটারকে বঞ্চিত করতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে (সিএএ) বিজেপি ও কেন্দ্র কৌশলে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেছে এই সংগঠন। তাঁদের দাবি উড়িয়ে পাল্টা এর পিছনে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে দাবি করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার সংগঠনের কর্মকর্তা সব্যসাচী দাস বলেন, পুরাতন মালদহ, হবিবপুর এবং গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রে সব মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষ হিন্দু বসবাস করেন। তাঁদের অনেকেই মতুয়া এবং নমঃশূদ্র। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা মূলত বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় তাঁরা চরম আতঙ্কে। ভাবছেন ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে না।
হিন্দু কমিউনিটি ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই বাসিন্দাদের সিএএ ফর্ম পূরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময় সাপেক্ষ। সব নিয়ম, শর্ত পূরণ করে ওই মানুষদের আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় স্থান পাওয়া কঠিন।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলে বিজেপিকে হারাতে প্রয়োজনে নোটায় ভোট দেওয়ার আবেদন করবেন বলে জানিয়েছে এই সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, এই বিপুল মানুষ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলে আদতে লাভবান হবে তৃণমূল। তাঁদের নাম তোলা হবে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের সময়, যাতে বিজেপি এই বিপুল মানুষের সমর্থন পায়। আসলে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বোঝাপড়ার মাশুল দিতে হচ্ছে এই হিন্দু উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের।
অন্যদিকে, মালদহ (দক্ষিণ) জেলা বিজেপি সভাপতি এই সংগঠনকে ভুঁইফোড় বলে দাবি করেছেন। বলেন, এই সংগঠনের পিছনে রাজ্যের শাসকদলের মদত থাকতে পারে। অজয়বাবুর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আমরা বলেছি,সমস্ত হিন্দু ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় থাকতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। ফলে এই ধরণের সংগঠনের ভিত্তিহীন দাবিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।
জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির কথায়, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করছে বিজেপি। সেটাই এখন ব্যুমেরাং হচ্ছে। হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ, এখন ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা করছেন। তবে, এই সংগঠনের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি মিথ্যে প্রচার করছে।
• নিজস্ব চিত্র।