নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলাবাজি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বারবার হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সতর্ক করেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। তাতে খুব একটা লাভ হয়নি শহরতলিতে। ঘোলা থানার পুলিশ শনিবার সোদপুরের মুড়াগাছা থেকে বিজেপির এক বুথ সভাপতিকে গ্রেপ্তার করায় তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ছিল। ধৃতের নাম বান্টি কর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্টি বিজেপির খড়দহ ৪ নম্বর মণ্ডলের ২১৭ নম্বর বুথের সভাপতি। অভিযোগ, অনলাইন ডেলিভারি কর্মীদের ভয় দেখিয়ে তিনি টাকা চেয়েছিলেন। এমনকি দাবি মতো টাকা না পাওয়ায় তাঁদের মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দলের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। দল তাঁকে সতর্ক করলেও কোনো লাভ হয়নি। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ঘোলা থানায় অভিযোগ দায়ের হলে শনিবার বান্টিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই বিষয়ে ওই মণ্ডলের সভাপতি তন্ময় গুহ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। দলীয় স্তরেও তদন্ত করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অন্যায় কাজ বরদাস্ত করা হবে না। প্রসঙ্গত, উত্তর শহরতলি জুড়ে একের পর এক বিজেপি নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি ও অন্যের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, খোদ বিধায়কদের দলবলের বিরুদ্ধে প্রমোদনগরে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিটি পুরসভা এলাকায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলারদের থেকে প্রোটেকশন মানি, ব্যবসায়ীদের থেকে পুজো ও দলীয় কর্মসূচির নাম করে দেদার টাকা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শহরতলির বহু জায়গায় আবার পুকুর ভরাট শুরু হয়েছে। বিপুল টাকার হাতছানিতে বেআইনি প্রোমোটিং পুরসভায় পাশ করিয়ে দেওয়ার খেলাও শুরু হয়েছে। দক্ষিণ দমদমে এনিয়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে। সমাজমাধ্যমে সেই অভিযোগ তুলছেন খোদ দলের নেতা-কর্মীরা। বহুক্ষেত্রে দলের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব চোখ বন্ধ করে বসে আছেন বলে অভিযোগ। প্রথম দিকে প্রতিটি পুরসভা এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগে বহু নেতা-নেত্রীকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর সাসপেনশন উঠে যেতেই তাঁরা স্বমহিমায় ফিরেছেন বলে অভিযোগ। বিজেপির জেলাস্তরের এক নেতা বলেন, দলের জেলা নেতৃত্ব এক চোখে দেখছেন। সব গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একইরকম পদক্ষেপ হলে কড়া বার্তা যেত। কে কার গোষ্ঠীর তা দেখে শাস্তির খাড়া নামছে বলে অভিযোগ। অবিলম্বে দল কড়া পদক্ষেপ না করলে পুরভোটে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।