Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে উধাও নথি, তুমুল শোরগোল

বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে উধাও নথি, তুমুল শোরগোল
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কয়েকবছর আগে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত নথি ‘হারিয়ে’ যাওয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সম্প্রতি অডিট চলাকালীন বিষয়টি স্বাস্থ্যদপ্তর জানতে পারে। পরে তা নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করেননি। তবে বুধবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ওই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রেকর্ড রুম সিল করে দেওয়ায় পুরো বিষয়টি সামনে আসে। এনিয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের অন্দরেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’ বলে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সংবাদমাধ্যমের কাছে বিশেষ কিছু বলতে চাইছে না।  
Advertisement
বাঁকুড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, রাজ্যের নির্দেশে বুধবার আমি বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে সাময়িক হাসপাতালের রেকর্ড রুমটি সিল করে দেওয়া হয়। এদিন অবশ্য সেটি খুলে দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্ত করছে। আমরা জেলাস্তরে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনেছিল। একটি সংস্থার কাছ থেকে তা কেনা হয়। বিল মেটানো নিয়ে ওই সংস্থার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন শুরু হয়। তখন উভয়পক্ষের চুক্তি সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খোঁজ করা হয়। তাতেই নথিপত্র উধাওয়ের বিষয়টি জানা যায়। অডিট ও তদন্ত চালিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকে তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আর জি কর কাণ্ডের পর সরকারি হাসপাতালগুলি আতশকাচের তলায় রয়েছে। যে কোনও কেনাকাটা করার আগে আমাদের সাতপাঁচ ভাবতে হচ্ছে। তবে পাঁচ-ছ’বছর আগে পরিস্থিতি এরকম ছিল না। তখন আধিকারিকদের একাংশ ধরাকে সরা জ্ঞান করত। তারা সরকারি টাকা দেদার খরচ করে কেনাকাটা করত। অনেকে আবার নিজের অফিস চেম্বার ঝাঁ চকচকে করার জন্য সরকারি টাকা অপচয় করতেন। সেই বিল অন্য খাত থেকে মেটানো হয়েছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বড়জোড়ার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ফলে এনিয়ে আমরা বিশেষ কিছু বলতে চাইছি না। উপরমহল থেকেও এব্যাপারে আমাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ