নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: তখন রাত প্রায় বারোটা। অতন্দ্র প্রহরী সীমান্তবর্তী মালদহ জেলার পুলিস যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সজাগ। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎই বেজে উঠল কন্ট্রোল রুমের ফোন। ওপার থেকে জড়ানো গলার আওয়াজ- হ্যালো...আমি বেশি মদ্যপান করে ফেলেছি। বাড়ির রাস্তা চিনতে পারছি না।
আবার কখনও আকণ্ঠ মদ্যপান করে জড়ানো গলায় ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে...হ্যালো...কেমন আছেন!
আপৎকালীন পরিষেবা ১০০ নম্বরে ফোন করে রাতবিরেতে এমন উদ্ভট আবদারে নাজেহাল মালদহ জেলা পুলিস। এই ধরনের কল রুখতে এসডিও কোর্টে মামলা করতে বাধ্য হচ্ছে পুলিস প্রশাসন।
পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, এই ধরনের বহু ফোন আসে। ১০০ একটি আপৎকালীন পরিষেবা। যেখানে মানুষ তাঁর সঙ্গে বা আশেপাশে ঘটা বিপদ সম্পর্কে পুলিসকে জানাতে পারেন। এরকম অবস্থায় এই ধরনের অবান্তর ফোন আসায় অনেকসময় ১০০ ডায়াল এনগেজ হয়ে যায়। যার ফলে বিপদের সময় অন্যান্য মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন।
রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মধ্যে মালদহ অন্যতম। বাংলাদেশ সীমান্তের পাশাপাশি এখানে বিহার ও ঝাড়খণ্ড সীমানা আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি নজরদারি চালাতে হয় পুলিস, প্রশাসনকে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর মালদহ জেলার পুলিস কন্ট্রোল রুমে সারা দিনে অন্তত পাঁচশো ফোন আসে। যার মধ্যে অনেক অবান্তর ফোনও থাকে।
পুলিস সুপার আরও বলেন, যারা এই ধরনের অকারণ ফোন করে বিব্রত করেন, তাদের খুঁজে বের করে মহকুমা শাসকের আদালতে বাউন্ড ডাউন মামলা করা হয়। এমন পদক্ষেপের কারণ, যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা এই ধরনের কাজ আর না করেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে এই ধরনের বেশকিছু মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে গভীর রাতে ১০০ নম্বরে ডায়াল করে পুলিস কন্ট্রোল রুমে ফোন করে অযথা বিব্রত করেছেন। অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করা হয়েছে এমন ফোন নম্বর, লোকেশন ট্র্যাক করে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই মহকুমা শাসকের আদালতে মামলা দায়ের করেছে পুলিস। বিএনএসএস ১৩৫ নম্বর ধারায় এসডিও কোর্টে প্রত্যেককে বাউন্ড ডাউন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁরা আপত্কালীন নম্বরে অযথা ফোন করবেন না বলে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিস কন্ট্রোল রুমের কর্মীদের একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতাও হয়। যেমন অনেক অসহায় বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা বাড়িতে একাই থাকেন। তাঁদের অনেকেই ১০০ নম্বরে ফোন করে খাবার বা ওষুধ চেয়ে পাঠান। পুলিস সবসময় তাঁদের প্রয়োজন মেটায়।