সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পর্যটন মরশুমের আগে বিষ্ণুপুরের রাধানগরে শালবাঁধ ইকো পার্ক নতুন করে সেজে উঠেছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পার্কটির বেহাল দশা হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়দের দাবি মেনে কয়েক মাস আগে পার্কের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। উক্ত টাকায় পার্কটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। শাল গাছ ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত পার্কে বসার জায়গা, গেট, শৌচালয় সহ শিশুদের খেলার জন্য দোলনা, স্লিপার তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরনো রেস্ট রুমটিকে সংস্কার করা হয়েছে। চারদিক বেড়া দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের পর্যটন মরশুমে পর্যটকদের জন্য তা নতুন একটি ডেস্টিনেশন হতে চলেছে।
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পর্যটনের উপরে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। রাধানগরে শালবাঁধ ইকো পার্কটি দীর্ঘ সময় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তা সংস্কারের জন্য বারবার আমার কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। সেই মতো জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়। কয়েকমাস আগে তা মঞ্জুর হয়। ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে পার্কের সংস্কারের কাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে সেচের জন্য রাধানগরে জঙ্গলের ধারে একটি খালে বাঁধ দিয়ে জলাশয় তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে তাকে ঘিরেই একটি পার্ক তৈরি করা হয়। চারদিকে শালগাছে ঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা থাকায় জায়গাটির নাম হয় শালবাঁধ ইকো পার্ক। রাধানগর ছাড়াও বিষ্ণুপুর ও আশেপাশের পিকনিক পার্টির অন্যতম ডেস্টিনেশন হয়ে যায় শালবাঁধ। পার্কের প্রবেশপথে একটি তোরণ তৈরি করা হয়। ভিতরে ফুলের বাগান, শিশুদের খেলনার স্লিপার, দোলনা সহ নানা উপকরণে সাজানো হয়। এমনকি পার্কের ভিতরে একটি গেস্ট হাউস তৈরি করা হয়। খালের জলে বোটিং চালু না হলেও জলাশয়ে হরেকরকম পরিযায়ী পাখি ভিড় জমাত। বহু পর্যটক পার্কে আসতেন। এছাড়াও শীতের মরশুমে পিকনিক পার্টির ঢল নামত। কিন্তু, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে পরবর্তীকালে বাগান নষ্ট হয়ে যায়। গেস্ট হাউসটি ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়। জলাশয়টিও মজে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা বাসিন্দারা পার্কটিকে নতুন করে সাজানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জলাশয় ও বাগানের সংস্কার এবং অন্যান্য উপকরণে সাজিয়ে পর্যটকদের কাছে পুনরায় আকর্ষণীয় করে তোলার দাবিতে একাধিকবার সরবও হয়েছেন। পরবর্তীকালে বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে পার্কের সংস্কারের জন্য জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিষ্ণুপুরের বিধায়কও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। সেই মতো অর্থ বরাদ্দ হয়। উক্ত টাকায় শৌচাগার, বসার শেড, রেস্ট রুম, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটা সময় শালবাঁধ ইকো পার্কে পর্যটকের ভিড় থাকত। শীতের মরশুমে পিকনিক পার্টির ঢল নামত। কিন্তু, পরবর্তীকালে পরিচর্যার অভাবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। ঝোপঝাড়ে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় নির্জন এলাকায় মানুষজন যেতে ভয় পেতেন। পার্ক সংস্কারের জন্য বারবার দাবি জানানো হয়। অবশেষে পার্কটিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি। নিজস্ব চিত্র