সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এক বছর বন্ধ থাকার পর পুজোর আগে নতুন রূপে খুলতে চলেছে বিষ্ণুপুরের লালগড় প্রকৃতি উদ্যান। তার জন্য পার্কটিকে ঢেলে সাজার কাজ চলছে। আগে পার্কে কেবলমাত্র ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা ছিল। এবার থেকে সেখানে পর্যটকদের খাবারের জন্য রেস্তরাঁও চালু হবে। সব মিলিয়ে পুজোর আগে লালগড় পার্ক পর্যটকদের একটি আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠবে।
বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দোলগোবিন্দ পরামানিক বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে লালগড় পার্ক দীর্ঘ এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নতুন বেড়া দেওয়া হয়েছে। তা পরিচালনার জন্য নতুন করে টেন্টার হয়েছে। পুজোর আগেই সাধারণের জন্য তা খুলে দেওয়া হবে।
বিষ্ণুপুর শহরের উপকণ্ঠে লালগড়ে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশময় একটি প্রকৃতি উদ্যান রয়েছে। বাম আমলে জেলা পরিষদের তরফে তা তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতিকে পার্কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পার্কের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে গভীর জঙ্গল। জঙ্গলের সৌন্দর্য দেখার জন্য পার্কের ভিতরে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। কখনও কখনও ওই জঙ্গলের ভিতর দিয়ে বুনো হাতির আনাগোনা করে। এছাড়াও পার্কে ফুলের বাগান, পরিখা সহ বিভিন্ন ধরনের পর্যটন নিদর্শন রয়েছে। যার আকর্ষণে সারাবছরই পর্যটকরা ওই উদ্যানে ভিড় জমান। শীতের মরশুমে সেখানে পর্যটকের ব্যাপক ভিড় হয়। তবে একবছর আগে ওই উদ্যানে অসামাজিক কাজকর্মের অভিযোগ আসে। ঘটনায় কয়েকজনকে পুলিস আটক করে। শুধু তাই নয়, উদ্যানের একাংশে বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাইরে ঝোপের আড়াল থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি ভিডিও করে পর্যটকদের ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছিল। তারপর থেকে উদ্যানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিচালনার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় পূর্বতন ঠিকা সংস্থার চুক্তিও বাতিল করা হয়। পরবর্তীকালে উদ্যানের নিরাপত্তার জন্য সিসিক্যামেরা বসানো হয়। নতুন করে বেড়াও দেওয়া হয়। পার্ক খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে। পুজোর আগেই তা খুলে দেওয়া হবে। বিষ্ণুপুরের অন্যতম জনপ্রিয় ওই প্রকৃতি উদ্যান পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়ায় পর্যটনপ্রেমী মানুষজন খুশি হয়েছেন। পার্ক পরিচালনার বরাত পাওয়া নাসিম মল্লিক বলেন, লালগড় পার্কের সঙ্গে বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের অনেক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সেগুলিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে। এছাড়াও নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্রিক নানা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পুজোর আগেই সাধারণের জন্য পার্ক খুলে দেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র