Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুর: দু’বছর আগে ধসে নষ্ট হওয়া সেতুর সংস্কার হয়নি, বিপদ মাথায় পারাপার

দু’বছর আগে বর্ষায় জলের তোড়ে বিড়াই নদীর সেতুর একাংশ ধসে গিয়েছিল। এতদিন কেটে গেলেও সংস্কার অথবা নতুন সেতু তৈরি হয়নি।

বিষ্ণুপুর: দু’বছর আগে ধসে নষ্ট হওয়া সেতুর সংস্কার হয়নি, বিপদ মাথায় পারাপার
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দু’বছর আগে বর্ষায় জলের তোড়ে বিড়াই নদীর সেতুর একাংশ ধসে গিয়েছিল। এতদিন কেটে গেলেও সংস্কার অথবা নতুন সেতু তৈরি হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার বিষ্ণুপুরের সুভাষপল্লিতে সেতুর সংস্কার অথবা নতুন করে তৈরির দাবিতে আন্দোলনে নামেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বিষ্ণুপুর শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সেতু। কিন্তু দু’বছর ধরে তা বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।  প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বহুবার জানানো হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এতদিন কেটে গেলেও তার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  এপ্রসঙ্গে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, সুভাষপল্লির ভগ্ন সেতুর বিষয়টি বিধানসভায় তোলা হয়েছে। বাসিন্দারা এতদিন ধৈর্য্য ধরেছেন। আর একটু অপেক্ষা করুন। আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছি। সরকারি দপ্তরেও বলা হয়েছে। আশা করি দ্রুত তা মঞ্জুর হয়ে যাবে।

Advertisement

বিষ্ণুপুর ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক  বলেন, সুভাষপল্লিতে ধসে যাওয়া সেতুর সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে প্রকল্প তৈরি করে তা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তা মঞ্জুর হয়ে আসেনি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষপল্লিতে বিড়াই নদীতে আগে বাঁশের সেতু ছিল।  পরবর্তীকালে পাকা সেতু হয়। তাতে ছোট ছোট ১৪টি বক্স তৈরি করা হয়। ২০২৩সালে বর্ষায় জলের তোড়ে সেতুর মাঝখানের ৫টি বক্স ধসে যায়। ওই অংশ হেলে গিয়েছে। বিপজ্জনক জেনেও দূরত্বের কথা চিন্তা করে বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। শুধু সুভাষপল্লিই নয়। দ্বারকেশ্বরের ওপারে জন্তা, ডিহর, ধানগোড়া, বেলিয়াড়া প্রভৃতি প্রায় আরও ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা ওই সেতুর উপর দিয়ে বিষ্ণুপুর শহরে যাতায়াত করেন। বৃহস্পতিবার সুভাষপল্লির বাসিন্দারা সেতুর সামনে জমায়েত করেন। এবং অবিলম্বে ওই সেতুর সংস্কার অথবা নতুন করে তা তৈরির জোরালো দাবিতে আন্দোলনে নামেন।  স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সুভাষপল্লি গ্রামে প্রায় আড়াইশোটি পরিবার রয়েছে। স্কুল কলেজর ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কৃষকরা সবজি বিক্রি করার জন্য বিষ্ণুপুর শহরে যাতায়াত করেন। বিড়াই নদীর বেহাল সেতুই যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। ওই রাস্তায় মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে বিষ্ণুপুর শহর অবস্থিত। অন্যথায় দ্বারিকা হয়ে সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে। তাই বিড়াই নদীর উপর সেতু ধসে যাওয়ায় বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।  
স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত রায় বলেন, গত লোকসভা ভোটে আমাদের গ্রামের সিংহভাগ ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ একদিনের জন্য আমাদের সমস্যার কথা ভাবেননি। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, ওই এলাকার পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা সকলেই তৃণমূলের। তাঁরা কী করছেন? আর আমাদের সাংসদ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে তা আটকে দেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ