Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীত পড়তেই নদীয়া জেলাতে পাখির চোরাশিকারিদের দাপট

শীতের আমেজ পড়তেই নদীয়া জেলাজুড়ে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পাখিরচোরাশিকারিদের চক্র।

শীত পড়তেই নদীয়া জেলাতে পাখির চোরাশিকারিদের দাপট
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: শীতের আমেজ পড়তেই নদীয়া জেলাজুড়ে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পাখিরচোরাশিকারিদের চক্র। শীতের মরশুমে বাইরের অসংখ্য পরিযায়ী পাখি জেলার বিভিন্ন খাল–বিল, জলাশয় ও আবাসস্থলে ভিড় জমায়। সেই সুযোগেই কিছু দুষ্কৃতী চোরাগোপ্তাভাবে পাখির শিকার করছে বলে অভিযোগ। ইউরেশিয়ান কোলার্ড ডোভ, কমন স্যান্ডপাইপার থেকে কমন স্নাইপ, উড স্যান্ডপাইপার—এমন বহু প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এই চক্রের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জেলাজুড়ে একের পর এক খবর আসছে পাখিশিকারের। গত ২৮ অক্টোবর কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার মহিষনগরায় অভিযান চালিয়ে জামাল মণ্ডল নামে এক চোরাশিকারিকে গ্রেফতার করে বনদপ্তর। ওই চোরাশিকারিরথেকে উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। যেগুলি অবৈধভাবে শিকার করে বিক্রির জন্য মজুত রাখা হয়েছিল। কয়েকটি জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে বনদপ্তর।
বনদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, আমরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছি। কোথাও পাখি শিকারের খবর পেলেই অভিযান চালানো হচ্ছে। শীতের সময় বহু পরিযায়ী পাখি আসে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ওই বনাধিকারিক আরও বলেন, জেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে থাকা পরিযায়ী পাখিরা দিনের বেলা রোদ পোহাতে বা খাবার সংগ্রহ করতে বাইরে বেরোলেই শিকারিরা সুযোগ নিয়ে তাদের ফাঁদ পেতে ধরে ফেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসব পাখির মাংসের কদর অনেক বেশি হওয়ায় শিকারিরা মোটা টাকার লোভে ঝুঁকে পড়ছে এই অবৈধ ব্যবসায়। ফলে প্রতি বছরই শীত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরা শিকারি চক্র। কৃষ্ণনগর, চাপড়া, তেহট্ট, ধুবুলিয়া জেলার নানা প্রান্তে একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে।
প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত শিকার চলতে থাকলে বহু প্রজাতির পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে যেতে পারে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর।
বনদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাস ধরে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান হয়েছে। কোথাও সন্দেহজনকভাবে পাখি শিকারের ঘটনা চোখে পড়লেই দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ