Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্বস্থলীর চুপিতে পক্ষীগণনা, পরিযায়ীর সংখ্যা কমতে থাকায় উদ্বেগে বন দপ্তর

পূর্বস্থলীর চুপির পাখিরালয়ে পরিযায়ীর সংখ্যা কমছে। চুপি থেকে সাত কিমি দূরে গিয়ে বসছে তারা। মঙ্গলবার পক্ষীগণনা করতে গিয়ে তা টের পেল বনদপ্তর।

পূর্বস্থলীর চুপিতে পক্ষীগণনা, পরিযায়ীর  সংখ্যা কমতে থাকায় উদ্বেগে বন দপ্তর
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর চুপির পাখিরালয়ে পরিযায়ীর সংখ্যা কমছে। চুপি থেকে সাত কিমি দূরে গিয়ে বসছে তারা। মঙ্গলবার পক্ষীগণনা করতে গিয়ে তা টের পেল বনদপ্তর। এবার গতবারের তুলনায় অর্ধেক পরিযায়ী এসেছে। চুপিতে মাত্র কয়েকটি ঝাঁক দেখতে পেয়েছেন তাঁরা। রীতিমতো উদ্বেগে বনদপ্তর। 

Advertisement

পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা বলেন, গত বছর চুপির পাখিরালায় প্রায় ৭৭ প্রজাতির ১১ হাজার ৫০০ পাখি এসেছিল। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত যা হিসেব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ৬৯ প্রজাতির ৫ হাজারের আশপাশে পাটি এসেছে। যদিও গণনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো সম্ভব নয়। পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়। তবে পাখিরা অন্য কোনও নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। 
এদিন চুপিতে ডিএফওর সঙ্গে কাটোয়ার রেঞ্জার শিবপ্রসাদ সিনহাও যান। তাঁদের সঙ্গে গণনার কাজে পারদর্শী বেশ কয়েকজন যান। ছাড়িগঙ্গায় নৌকা করে তাঁরা প্রথম দফায় পক্ষী গণনার কাজ শেষ করেন। কয়েকদিন ধরে কাটোয়া ও  কালনা সহ ভাগীরথীতেও পরিযায়ী গণনা চালাবে বনদপ্তর। পক্ষীগণনায় থাকা এক অফিসার হতাশ হয়ে বলেন, চুপিতে ক্রমশ পাখির সংখ্যা কমছে কেন বুঝতে পারছি না। এটা আমরা দেখব। তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে কমছে কি না, বুঝতে পারছি না। 
স্থানীয় মাঝিদের একাংশ বলছেন, চুপিতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ পিকনিক পার্টিদের শব্দ দানবের অত্যাচার। বহুজন পিকনিক করতে এসে বক্স বাজান। শব্দর অত্যাচার পাখিরা পছন্দ করে না। এছাড়াও বেশ কয়েকজন জেলে আলো জ্বেলে রাতে মাছ ধরে। নিষেধ করলেও শোনে না। এদিন বনদপ্তর ওই এলাকায় সচেতনতা প্রচার করে। কয়েক বছর ধরেই কাষ্ঠশালী ঘাট ছাড়িয়ে দক্ষিণ দিকে প্রায় সাত কিমি গেলেই দেখা মিলছে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখির। ভাইরাল বাঁশের সেতুর কাছেই নৌকা নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। নবপল্লির ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে ঘুরলেই পাখিদের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, আসলে চুপিতে পর্যটকদের একাংশ বিরক্ত করায় পাখিরা কিছুটা দূরে গিয়ে বসছে। পূর্বস্থলী-২ ব্লকের চুপির ছাড়িগঙ্গাজুড়ে বিদেশি পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র গড়ে উঠছে কয়েক দশক ধরে। চুপি, কাষ্ঠশালী, রাজার চর প্রভৃতি এলাকায় পরিযায়ী পাখিদের দেখতে প্রতি বছর শীতে কাতারে কাতারে দেশ বিদেশের পর্যটক আসেন। নামী চিত্রগ্রাহকরাও আসেন ছবি তুলতে। ছাড়িগঙ্গার পাড় এলাকাজুড়ে প্রচুর রিসর্ট গড়ে উঠেছে পর্যটকদের জন্য। রাজ্য সরকার চুপির পাখিরালয়কে ঘিরে বড় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। কিন্তু পরিযায়ীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় চিন্তায় ব নদপ্তর।   চুপীতে পরিযায়ী পাখির জলকেলি।-নিজস্ব  চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ