Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৫ ফুটের লক্ষ্মী, কোজাগরীর আরাধনায় মাতোয়ারা বীরভূম

সোমবার কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠল গোটা রাজ্য সহ বীরভূমের বাসিন্দারা।

২৫ ফুটের লক্ষ্মী, কোজাগরীর আরাধনায় মাতোয়ারা বীরভূম
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সোমবার কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠল গোটা রাজ্য সহ বীরভূমের বাসিন্দারা। সিউড়ির পুরন্দরপুরে ২৫ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিলেন উদ্যোক্তারা। দুবরাজপুরের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমে আবার মা সারদাকেই পুজো করা হল লক্ষ্মী রূপে। শান্তিনিকেতনের তালতোড় গ্রামে আবার লক্ষ্মী-সরস্বতীকে একসঙ্গে পুজো করা হয়। সোমবার ছিল মা তারার আবির্ভাব দিবস। সেই উপলক্ষ্যে ভোররাত থেকেই তারাপীঠ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। 

Advertisement

সিউড়ি-২ ব্লকের পুরন্দরপুর আদিরে পাড়া বিধান স্মৃতি সঙ্ঘের লক্ষ্মীপুজো এবছর ৩৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল। লক্ষ্মীপুজোয় প্রতিবছরই নতুন নতুন চমক দিয়ে থাকেন পুজো উদ্যোক্তারা। এবছর ২৫ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। প্রথম দিন থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা। পুজো কমিটির সদস্য চন্দন সাহা বলেন, গত বছর আমরা ২২ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করেছিলাম। এবছর ২৫ ফুটের। আমাদের এবছরের প্রতিমায় মা লক্ষ্মীকে সীতা রূপে দেখানো হয়েছে। সীতার পিছনে নারায়ণ রূপে উপস্থিত রয়েছেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র। প্রতিমার নীচে একদিকে যেরকম পেঁচা হয়েছে, তেমনই রাখা হয়েছে হনুমানও। মোট পাঁচদিনের পুজো। শুক্রবার বিসর্জন। 
দুবরাজপুরের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমে প্রতিবছরের মতো এবছরও মা সারদাকেই লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়। এদিন পুজোর পাশাপাশি বিশ্ব কল্যাণের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করা হয়। এছাড়া ভক্তসেবাও করানো হয়। আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দশক আগে আশ্রমের সঙ্ঘ গুরু স্বামী সত্যানন্দ দেবের হাত ধরে মা সারদাকে নানা রূপে পুজোর প্রচলন শুরু হয়। মা সারদাকে কখনও লক্ষ্মী, কখনও সরস্বতী, আবার কখনও দেবী কালী রূপে পুজো করা হয়। সেইমতো এদিনও মাকে লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হচ্ছে।
শান্তিনিকেতনের তালতোড় গ্রামে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন লক্ষ্মী ও সরস্বতী—দুই দেবীকে একই সঙ্গে বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসছে গ্রামের জমিদার পরিবার। জানা গিয়েছে, ২৭৬ বছর আগে জমিদার বিশ্বনাথ ঘোষের স্ত্রী স্বর্ণময়ী দেবী মা দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান। তারপর থেকে দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই দুর্গা মণ্ডপেই সাড়ম্বরে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পুজো অর্চনা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই পুজো দেখতে বোলপুর শান্তিনিকেতনের পাশাপাশি ভিড় করেন আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারাও। পরিবারের সদস্য বিশ্বরূপ ঘোষ বলেন, প্রথা মেনে পুজো হয়।
এছাড়াও এদিন জেলার প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই লক্ষ্মীপুজো হয়। পুজোর কেনাকাটা করতে জেলার বিভিন্ন বাজারেই ভিড় জমিয়েছিলেন ক্রেতারা। দামের ছেঁকায় হাত পুড়লেও লক্ষ্মীর আরাধনায় ত্রুটি রাখেননি বাসিন্দারা। জেলার বিভিন্ন বাজারে মাটির দু’ফুট, তিনফুটের প্রতিমাও বিক্রি হয়েছে প্রচুর। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ