Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরভূম: শীত পড়তেই জেলায় হাজির বানজারা, বদায়ুঁ গ্যাং, সতর্ক করতে মাইকিং পুলিশের

কখনও ভিক্ষাবৃত্তি আবার কখনও পণ্য বিক্রির আড়ালে হাতসাফাই। পলকেই সোনার গয়না, টাকা নিয়ে চম্পট। কিন্তু কারা এরা?

বীরভূম: শীত পড়তেই জেলায় হাজির বানজারা, বদায়ুঁ গ্যাং, সতর্ক করতে মাইকিং পুলিশের
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : কখনও ভিক্ষাবৃত্তি আবার কখনও পণ্য বিক্রির আড়ালে হাতসাফাই। পলকেই সোনার গয়না, টাকা নিয়ে চম্পট। কিন্তু কারা এরা? কেনই বা হাত সাফাইয়ের কাজে এরা অসীম পারদর্শী? এরা মূলত মহিলা। অনেকের কোল আলো করে থাকে ফুটফুটে শিশু। বাংলার মানুষের সহানুভূতি আদায়ের অস্ত্র। আসেন বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে। বাংলায় ঢুকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নেমে পড়ে চৌর্যবৃত্তিতে। বিহার, হরিয়ানা থেকে যারা আসে, পুলিশের খাতায় তারা ‘বানজারা গ্যাং’। আর উত্তরপ্রদেশ থেকে এলে ‘বদায়ুঁ গ্যাং’।  

Advertisement

প্রধানত শীতকাল এই ধরনের অপরাধের মরশুম। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলায় গ্যাংয়ের মহিলা সদস্যরা ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিক্ষা করার অছিলায় বিভিন্ন বাড়িতে ও মন্দিরে রেকি করা শুরু করেছে। এর পর সুযোগ বুঝে লুট। কিছু ঘটনাও ইতিপূর্বে ঘটে গিয়েছে। পুলিশ এবার বানজারা গ্যাংয়ের কাজকর্ম রুখতে সচেতনতার উপর জোর দিয়েছে।  এলাকায় বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে কেউ এলে খবর দেওয়ার জন্য মাইকিং করেছে মুরারই থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বানজারা গ্যাংয়ের সদস্যারা বিভিন্ন স্টেশন চত্বর ও ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে থাকতে শুরু করেছে। কেউ ভিক্ষা করছে। কেউ বা বেলুন, ছোটদের খেলনা তৈরি করে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছে। আর পুরুষরা ইঁদুর, পাখি ধরতে মাঠেঘাটে, জনবসতি এলাকায় ঢুঁ মারছে। অ্যাকোরিয়াম, শীতের পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে উত্তরপ্রদেশের কিছু মানুষ। এদের কেউ কেউ ঘর ভাড়া নিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করছে। পুলিসের দাবি, এসবের আড়ালে চুরি করে চম্পট দিচ্ছে তারা। কখনও চোর, কখনও ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিরও শিকার হচ্ছে তারা। 
এদিন, মুরারইয়ের রাজগ্রাম এলাকায় টোটোয় মাইক বেঁধে প্রচার করতে দেখা যায় পুলিশকে। মাইকে বলা হচ্ছে, বিহার, ইউপি, হরিয়ানা থেকে আসা ব্যক্তিদের ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে ভালো করে পরিচয় পত্র যাচাই করুন। সন্দেহ হলেই থানায় জানান। ঘর ফাঁকা রেখে যাবেন না। পরিচিত কাউকে বাড়িতে রেখে তবেই যাবেন। যদি দেখেন এলাকার কোনও ফাঁকা জায়গায় বানজারা গ্যাং ঘাঁটি গেড়েছে, তা হলে অতিসত্বর থানায় খবর দিন। রাজগ্রামের বাসিন্দা সাবিনা বিবি, ফতেমা বিবিরা বলেন, ‘দিনে পুরুষ সদস্যরা কাজে যায়। অনেকেই কম্বল, অ্যাকোরিয়াম বিক্রি করতে আসছে। হিন্দিতে কথা বলছে। এদের মনের মধ্যে কী রয়েছে, জানা তো সম্ভব নয়। পুলিশের প্রচার শুনে আমরা সতর্ক হলাম।’  
পুলিস জানিয়েছে, এরা দিনে একরকম। রাতে অন্যরকম। মানুষের শীতঘুমের সুযোগে চুরি করে অন্ধকারে মিশে যায়। কেউ আবার চুরি করে লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে যাচ্ছে। আর নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ গ্যাং মূলত কম্বল বিক্রির ভেক ধরে লুট করে। এই গ্যাংয়ের মহিলা ও পুরুষ সদস্যরা চুরির কাজে সমান পারদর্শী। বানজারা গ্যাংয়ের অপারেশনের নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে। শিশু কোলে নিয়ে বা গর্ভবতী মহিলারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করার অছিলায় চুরি করে। মূলত গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের অথবা কিশোর কিশোরীদের দিয়ে হাত সাফাইয়ের কাজ করানো হয়। দলের রাশ থাকে পুরুষ সদস্যদের হাতেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ