সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এবার রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে বালুরঘাট বিমানবন্দর। শাসক ও বিরোধীর দায় ঠেলাঠেলিতে নতুন রং জেলার রাজনীতিতে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিমান পরিষেবা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে মাঠে নামলেন রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। পাল্টা রাজ্যকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
বংশীহারির দৌলতপুরে এক সরকারি কর্মসূচি থেকে বিপ্লব অভিযোগ করেন, বালুরঘাট বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণ হলেও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক উড়ান পরিষেবার জন্য সবুজ সংকেত দেয়নি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের গাফিলতির জন্যই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিমান পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
বিজেপির পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি সুকান্ত আসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বালুরঘাট বিমানবন্দর চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি, পরিকাঠামো থাকলেও বিমান চালু করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। নির্বাচনের মুখে জেলার দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর এই লড়াই এখন ভোটের রাজনীতিতে চর্চার অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুকান্তর দাবি, ২০১৪ সালে কেন্দ্র মাত্র এক টাকার বিনিময়ে ৩০ বছরের চুক্তিতে বালুরঘাট বিমানবন্দর রাজ্য সরকারকে হস্তান্তর করে। ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও উড়ান পরিষেবা চালু হয়নি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য চাইলে আজই উড়ান শুরু করা সম্ভব। কিন্তু দায় এড়াতে কেন্দ্রকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। সরাসরি রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে সুকান্তর মন্তব্য, রাজ্য যদি না পারে, বিমানবন্দর কেন্দ্রকে ফেরত দিক। এক বছরের মধ্যেই উড়ান চালু করে দেখাব।
অন্যদিকে, বিপ্লবের দাবি, কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া একটি বিমানও নামতে পারে না। জেলায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও উড়ান পরিষেবার সবুজ সংকেত আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরিকাঠামো তৈরি করার দায়িত্ব নিয়েছে এবং সম্পূর্ণও করেছে।