Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মুনির স্যুট পরা লাদেন, প্রাক্তন পেন্টাগন কর্তার তোপে ট্রাম্পও

নিজের দেশেই প্রবল সমালোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কেউ নয়। খোদ পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্তা, মিডল ইস্ট অ্যানালিস্ট মিখাইল রুবিন বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এতকালের বন্ধু ভারতকে দূরে সরিয়ে এবং উন্মাদ রাষ্ট্র পাকিস্তানকে প্রশ্রয় দিয়ে আমেরিকারই সর্বনাশ করছেন।’

মুনির স্যুট পরা লাদেন, প্রাক্তন পেন্টাগন কর্তার তোপে ট্রাম্পও
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিজের দেশেই প্রবল সমালোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কেউ নয়। খোদ পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্তা, মিডল ইস্ট অ্যানালিস্ট মিখাইল রুবিন বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এতকালের বন্ধু ভারতকে দূরে সরিয়ে এবং উন্মাদ রাষ্ট্র পাকিস্তানকে প্রশ্রয় দিয়ে আমেরিকারই সর্বনাশ করছেন।’ রুবিন সরাসরি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনিরকে সামরিক পোশাকের আড়ালে ওসামা বিন লাদেন আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ফ্লোরিডার টাম্পা শহরে দাঁড়িয়ে মুনির পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের উচিত ছিল, তাঁকে ওরকম একটি বক্তব্যের আধ ঘণ্টার মধ্যে ওই অনুষ্ঠান থেকে সোজা টাম্পা এয়ারপোর্টে নিয়ে গিয়ে ফিরতি বিমানে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া। অথচ ট্রাম্পের বিদেশনীতি যে ঠিক কী, সেটা মার্কিন নাগরিকরা বুঝতে পারছে না। পাকিস্তানকে কি আর আদৌ কোনও রাষ্ট্রের মর্যাদায় রাখা যায়? এই সংশয় কিন্তু ওরাই গোটা বিশ্বের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে।’ ভারত এত বছর ধরে যা বলে এসেছে, মিখাইল রুবিন ঠিক সেই সুরে বলেছেন, ‘পাকিস্তানে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ চলছে। আইএস যে ভাষায় কথা বলে, আল কায়েদা যেভাবে হুমকি দেয়, ঠিক সেই ভাষায় কথা বলছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।’ চরম আক্রমণাত্মক মিখাইল রুবিনের প্রস্তাব, ‘পাকিস্তানে ঢুকে তাদের পরমাণু অস্ত্রগুলি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে কি না, সেই চিন্তা করা উচিত আন্তর্জাতিক মহলের। আর অন্যদিকে পাকিস্তানকে প্রশাসনিকভাবে দুর্বল করাও প্রয়োজন। সেজন্য প্রধান পদক্ষেপ হওয়া দরকার, বালুচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে ছিন্ন করে স্বাধীন ঘোষণা করা। মার্কিন সিল বাহিনী যেভাবে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করতে অ্যাবটাবাদে ঢুকেছিল, ঠিক সেভাবে প্রবেশ করতে হবে পাকিস্তানে।’ রুবিনের বক্তব্য, ‘জর্জ বুশের সময় থেকে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে এবং ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম আস্থাভাজন মৈত্রীবন্ধনে যুক্ত হয়েছে। সেই বন্ধন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন ট্রাম্প।’ রুবিনের সন্দেহ, নিছক রাশিয়ার থেকে তেল কেনাটা কারণ হতে পারে না। অন্য কোনও কারণ, অথবা স্বার্থ আছে ট্রাম্পের।’ 

Advertisement

অর্থাৎ, দেশের অন্দরেও তাঁর ভারত বিরোধিতার জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে শুরু করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি হঠাৎ তিনি চীন সম্পর্কেও নরম মনোভাব নিতে শুরু করলেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। কারণ এতদিন চীন ও রাশিয়া নিয়ে হম্বিতম্বি করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, চীনের উপর আরোপ করা বাণিজ্য শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হল। আরও ৯০ দিন বেশি সময় দেওয়া হল চীনকে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ঘোষণার পর থেকে একে একে চীন আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে। আমেরিকায় ক্রিটিক্যাল মিনারেলস রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে বেজিং। এবার  মঙ্গলবার চীন আরোপ করেছে চিপ আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ। মূলত মার্কিন সংস্থা এনভিডিয়া যে চিপ রপ্তানি করে, তা চীনে ঢোকা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং। এই হাঁকডাক রীতিমতো আতঙ্কে ফেলছে মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে। কারণ এরপর যদি আইফোন উৎপাদনের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চীন চাপিয়ে দেয়, তাহলে অ্যাপল পড়বে মহাসঙ্কটে। সুতরাং ধীরে হলেও ট্রাম্প শুল্কযুদ্ধের আঁচ টের পেতে শুরু করেছেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ