নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: রাজ্যে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে বীজপুর বিধানসভা এলাকার পুজো কমিটিগুলিতেও বদল এসেছে। অধিকাংশ পুজো চলে গিয়েছে বিজেপি নেতা বা সমর্থকদের হাতে। গত বছর পর্যন্ত তৃণমূলের চেয়ারম্যান বা নেতারা যে পুজোর কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁরা এবার পুজো তো দূরঅস্ত, মণ্ডপের ধারে কাছে নেই। হালিশহর, কাঁচরাপাড়া এলাকায় পুজোর আয়োজনে কোনো খামতি নেই। থিম আর সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনে জমজমাট বীজপুর বিধানসভা এলাকার পুজো। পুজোর বহর বা আয়োজনে যাতে ঘাটতি না থাকে, তার জন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তিনি সবকটি পুজো কমিটিকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে চার-পাঁচটি পুজো এতটাই ‘গ্ল্যামারাস’ হতে চলেছে যে, কলকাতার পুজোকেও রীতিমতো টেক্কা দিতে পারে। কোথাও হচ্ছে রাইটার্স বিল্ডিং, কোথাও হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার অনুকরণে মণ্ডপ, কোথাও হাওয়া মহল, কোথাও আবার বিষ্ণুমন্দির।
হালিশহরের বাণী মন্দিরের বলাকা শিশু মহলের পুজো ছিল প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষের। বর্তমানে সেই পুজো কমিটি আর তাঁর দখলে নেই। অন্যান্য পুজো কমিটিরও একই অবস্থা। আগে হালিশহরের তৃণমূল নেতা প্রবীর সরকারের পুজো ত্রিপর্ণ বলে পরিচিত ছিল। ভোটের পর প্রবীর সরকার বেপাত্তা। এখন সেই পুজো বাগমোর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির নামে হচ্ছে। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘ভূতের রাজা দিল বর’ অবলম্বনে মণ্ডপ তৈরি করছেন শিল্পী অর্ক ধর। সেখানে গুপী-বাঘা থেকে সিনেমার বিভিন্ন চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হীরক রাজার যে সভাসদ ছিল, ঠিক তেমনই মা দুর্গার সভাসদ বসবে ওই পূজা মণ্ডপে। রেল শহর বলে পরিচিত কাঁচরাপাড়ায় ১৬’র পল্লির পুজো এবার ৫০ বছরে পা দিল। তারা এ রাইটার্স বিল্ডিং তৈরি করছে। যার উচ্চতা ৭০ ফুট, আর চওড়া ১৩০ ফুট। প্রতিমা হচ্ছে সাবেকি।
কাঁচরাপাড়া মহাজাতি পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সজল কর্মকার। ওই পুজো এবার ৭০ বছরে পড়ল। সেখানে মণ্ডপ হচ্ছে রাজস্থানের হাওয়া মহলের অনুকরণে। উচ্চতা ৭৫ ফুট। প্রতিমা হবে সাবেকি। দীর্ঘদিন ধরেই কাঁচরাপাড়ায় বড় মাপের পুজো করে নবাঙ্কুর ক্লাব। এবার তাদের বিশেষ আকর্ষণ, ২৫ কেজি সোনার গয়নায় মুড়ে দেওয়া হবে দেবীকে। মণ্ডপ হচ্ছে বিষ্ণুমন্দিরের অনুকরণে। থাকছে ১২ ফুটের একটি বিষ্ণু মূর্তি। বিশ্বনাথ স্মৃতি সংঘের পুজোর থিম ‘মায়ের আঁচল’। যেখানে মায়ের আঁচলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে তুলে ধরা হচ্ছে।
সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন, রানি রাসমণি, স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিন বিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের শহর হালিশহর ও কাঁচরাপাড়ায় দুর্গাপুজোর আয়োজনে যাতে কোনো খামতি না থাকে, তার জন্য বিধায়ক সুদীপ্ত দাস পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করেছেন। সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।