নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই বিধানসভায় নিজের চিহ্নে ভোট। সল্টলেকের সিপিএম এবার এ কারণে টগবগে, চনমনে। নিজের চিহ্ন মানে? ‘তারা হাতুড়ি কাস্তে।’ প্রায় ১৫ বছর ধরে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে হয় কংগ্রেস প্রার্থী নয় ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন সিপিএমের কর্মী-সমথর্করা। তা নিয়ে চাপা অসন্তোষ ছিলই কর্মীদের মনে। সে খরা কেটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর বাদে আবার নিজের দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ সামনে। ফলে দত্তাবাদ থেকে বৈশাখী, শরৎ আবাসন থেকে এফ ডি ব্লক, সুকান্তনগর থেকে মহিষবাথান, দক্ষিণদাঁড়ি থেকে বাঙুর, সিপিএমের সব কর্মী উজ্জীবিত, উৎসাহী এবং আবেগপ্রবণ।
সিপিএমের অধিকাংশ কর্মী-সমর্থকের বক্তব্য, ‘যে কংগ্রেসের হাতে খুন হতে হয়েছিল সিপিএমের কর্মীদের, মার খেতে হয়েছিল, কয়েক দশক ধরে অত্যাচারিত হতে হয়েছিল, সে কংগ্রেসের প্রার্থীকে ভোট দিতে হাত কাঁপে। মৃত আত্মীয়-স্বজন-বন্ধুদের মুখ ভেসে ওঠে চোখের সামনে। সেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট! ভোটে জেতার তাগিদে পার্টি নিজের অংসখ্য কর্মীর আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করে এসেছে। এবার যে কারণেই হোক সিদ্ধান্ত হয়েছে সঠিক।’ এর পাল্টা একই কথা বলছেন রাজ্য কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘বছরের পর বছর সিপিএম আমাদের কর্মীদের খুন করেছে, অত্যাচার চালিয়েছে। সে দলের নেতাদের ভোট দিতে কষ্ট হয়।’
সিপিএম এবং কংগ্রেসের এই যে অন্তর্যাতনা, তার প্রভাব গত ভোটগুলিতে কম পড়েনি। রাজ্য রাজনীতিতে একটি থিয়োরিই চালু হয়ে গিয়েছে, ‘বামের ভোট রামে।’ পরিস্থিতি এমন যে, অনেক বামনেতার পর্যন্ত বক্তব্য, একটা সময় পর্যন্ত এটি থিয়োরিই ছিল। এখন ‘আগে রাম পরে বাম’ এই কথাটি যেন স্লোগানে পরিণত হয়ে গিয়েছে। বাস্তবেও এর প্রতিফলন লাগাতার পড়েছে ইভিএমে। তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতি। এই বিধানসভা নির্বাচনে পুরনো ছবিটা পাল্টাতে চলেছে। নিজের দলের প্রতীক পেয়ে উজ্জীবিত সিপিএম, কংগ্রেসও। ‘বামের ভোট রামে পড়ার সম্ভাবনা এবার একদম নেই,’ এককাট্টা কর্মীরা।
নেতা-কর্মীদের একটি বড়ো অংশের বক্তব্য, দু’টি দল যে তাদের অগণিত কর্মী-সমর্থকের মনের কথা অগ্রাহ্য করে জোট করেছিল, তার সুফল একেবারেই মেলেনি। সিপিএমের আসন সংখ্যা শূন্যতে এসে ঠেকেছে। এবার একা লড়াই করে নিজের ভোট বাড়িয়ে শূন্যতা কাটানোই লক্ষ্য। এবং ভোট বাড়লে দু’দলের জোট-সিদ্ধান্ত ফের চলে আসবে আতসকাচের তলায়। তুমুল বিতর্কে ফালাফালা হওয়ার সম্ভাবনা পূর্বেকার সিদ্ধান্ত।
বিধাননগরে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন সৌম্যজিৎ রাহা বলছেন, ‘নিজের দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারার একটা আনন্দ কাজ করছে কর্মীদের মধ্যে তা টের পাচ্ছে। ১৮ থেকে ৮৫ সব বয়সি মানুষকে পাশে পাচ্ছি। খুব ভালো সারা সর্বত্র।’