Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

রাজ্যেই তৈরি হবে সাইকেল, ফ্যাক্টরি তৈরির জন্য বিনামূল্যে জমি: মুখ্যমন্ত্রী, আগামী শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের ‘সারথি’

নবম শ্রেণি নয়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের দেওয়া হবে সাইকেল। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পালচৌধুরী হাইস্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যেই তৈরি হবে সাইকেল, ফ্যাক্টরি  তৈরির জন্য বিনামূল্যে জমি: মুখ্যমন্ত্রী, আগামী শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের ‘সারথি’
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নবম শ্রেণি নয়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের দেওয়া হবে সাইকেল। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পালচৌধুরী হাইস্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করে একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল তৈরির কারখানা তৈরি করতে আগ্রহী সংস্থাকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। একইসঙ্গে স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের জন্য ট্যাব, ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা, স্মার্ট স্কুলসহ একাধিক প্রকল্পের কথা এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

এদিন ব্যাঁটরার তিনটি স্কুলের ৭৩ জন পড়ুয়ার হাতে প্রতীকীভাবে ‘সারথি’র সাইকেল তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার পড়ুয়া এই প্রকল্পে সাইকেল পাবে। এজন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০৮ কোটি টাকা। নতুন সাইকেলের রং ও লোগো বদলের পাশাপাশি গুণগত মানও উন্নত করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে উন্নত মানের ব্রেক ও টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সাইকেল উৎপাদন নিয়েও রাজ্যের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা চেষ্টা করব, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের সাইকেল তৈরির কারখানা যারা করবে, তাদের জমিও দেব এবং পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল ক্রয় করার চুক্তিও করা হবে।’ এরপরেই ‘সবুজসাথি’’ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে মূলত পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে সাইকেলের পার্টস আনা হত। এখানে এনে সবটা একত্রীকরণ করা হত। পূর্বতন সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিকের পরিবারের আত্মীয়রা সেই কাজটা করতেন। আমরা সেই জায়গা থেকে এটাকে বের করে এনেছি। চুরি করতে দেব না।’
শিক্ষাক্ষেত্রে এদিন আরও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, রাজ্যে ৬০০টি স্মার্ট স্কুল অনুমোদিত হয়েছে। আরও ২০০টির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পড়ুয়াদের মোবাইলের পরিবর্তে পড়াশোনার প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের জন্য এডুকেশনাল ট্যাব দেওয়ার কথা জানান তিনি। স্কুল-কলেজে এনসিসি, এনএসএস ও ব্রতচারী চালুর উদ্যোগের কথাও বলেন। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, অঙ্কন, তবলা, হারমোনিয়াম, মৃদঙ্গ, খঞ্জনি, একতারা ও গিটারের মতো বিষয় স্কুলে যুক্ত করার কথা বলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং রাজ্য তৈরির ইতিহাস পড়ুয়াদের জানার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষার মাধুর্য ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ছাত্রীদের জন্য ‘শিক্ষারত্ন’ প্রকল্পে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বছরে ২ হাজার টাকা এবং স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পে তিনবছরে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মন, কৌশিক চৌধুরী, হরেকৃষ্ণ বেরা, উমেশ রাই, নদীয়ার চাঁদ বাউড়ি, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, সঞ্জয় সিং, অমিত সামন্ত এবং জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে মিড ডে মিল খান মুখ্যমন্ত্রী। মেনুতে ছিল ভাত, মুগডাল, সয়াবিন-আলু-বড়ির তরকারি এবং টম্যাটোর চাটনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ