• ‘তোমায় সাজাব যতনে কুসুমে রতনে...’ সেই কবে লিখে গিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সত্যিই তো যত্ন করে সাজিয়ে তোলার সম্পর্কই হল বিয়ে। চার হাত ‘এক’ হওয়ার অনুষ্ঠান। আসলে এই বন্ধন তৈরি হয় দুই পরিবারের মধ্যে। আর এই বিশেষ দিনে নতুন সম্পর্কের মধ্যমণি বর এবং কনের দিকে নজর থাকবে সকলের। তাঁদের সাজপোশাক নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। চিরাচরিত বেনারসি পছন্দ করেন অনেকেই। মা, ঠাকুরমার ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করতে চান জীবনের নতুন অধ্যায়। আবার কারও বা পছন্দ বেনারসির বদলে অন্য কোনও শাড়ি। যা একাধারে বিয়ের শাড়ির স্মৃতি হয়ে থাকবে। আবার সারা জীবন নানা অনুষ্ঠানে পরতেও পারবেন।
‘চতুষ্পর্ণী’-র ফ্যাশন শ্যুটে বিয়ের সাজে সেজেছেন অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়। প্রথম শাড়িতে তাঁর পরনে সাদা-লালের চিরাচরিত কম্বিনেশন। ঠিক যেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন। ‘রঙ্গোলি’র রাস কালেকশন থেকে এই কাতান সিল্কটি বেছে নিয়েছেন নায়িকা। চওড়া জরির পাড় এবং শাড়ির জমিতে বুটির কাজ। একেবারে হালকা ওজনের শাড়িটি অনেকক্ষণ পরে থাকলেও যাঁরা কম শাড়ি পরেন, তাঁদের ক্যারি করতে অসুবিধে হবে না। কৌশানীর শাড়ি পরার ধরনেও রয়েছে নতুনত্ব। বাড়িতে আগে ঠাকুরমা, দিদিমারা সাধাসিধে করে শাড়ি পরতেন। হালফ্যাশনে শাড়ি পরার এই ধরনটি আবারও খুব জনপ্রিয় হয়েছে। আপনার জীবনের বিশেষ দিনে আটপৌরে করে শাড়ি পরুন। শীতে বিয়ে হলে ফুলস্লিভ ব্লাউজ ট্রাই করতে পারেন। ডিজাইনার ফুলস্লিভ লাল ব্লাউজ ভবিষ্যতে নানা ধরনের একরঙা শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানাবে। কৌশানীকে লাল ওড়নায় সাজানো হয়েছে। বিয়ের কনের ওড়না পরার স্টাইল নতুন নয়। ওড়নার মধ্যে কখনও কবিতা, কখনও বা বৈদিক মন্ত্র এমব্রয়ডারি করেও তৈরি করানো যায়। তারও নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। পরিপাটি করে বাঁধা খোঁপা, ছোট্ট টিপ এবং লিপগ্লসে সেজেছেন অভিনেত্রী। চোখের মেকআপের উপর আলাদা করে নজর দেওয়া উচিত। গত কয়েক বছর কলকার ট্রেন্ড ছিলই না। এখন আবার কনেরা বিয়ের দিন চন্দনের কলকা করতে পছন্দ করছেন। মুখের গড়ন অনুযায়ী কলকার ডিজাইন হলে ভালো মানাবে। শাড়ি নকশাদার হলে কম গয়না পরলে ভারসাম্য বজায় থাকবে। তবে বিয়ের দিন অধিকাংশ কনে নানা ধরনের গয়নায় সাজেন।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য