Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূপতিনগর: স্ত্রীর খোরপোশ ফাঁকি দিতে ৬ বছর আত্মগোপন, টাকা না মেটানো পর্যন্ত ছাড় নয়, নির্দেশ বিচারকের

স্ত্রীর খোরপোশ যাতে না দিতে হয়, তারজন্য ছ’ বছর গা ঢাকা দিয়ে ছিল এক ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম হরিপদ মণ্ডল। বাড়ি ভূপতিনগর থানার দক্ষিণ বায়েন্দা গ্রামে।

ভূপতিনগর: স্ত্রীর খোরপোশ ফাঁকি দিতে ৬ বছর আত্মগোপন, টাকা না মেটানো পর্যন্ত ছাড় নয়, নির্দেশ বিচারকের
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্ত্রীর খোরপোশ যাতে না দিতে হয়, তারজন্য ছ’ বছর গা ঢাকা দিয়ে ছিল এক ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম হরিপদ মণ্ডল। বাড়ি ভূপতিনগর থানার দক্ষিণ বায়েন্দা গ্রামে। ২০২০ সালে কাঁথি এসিজেএম কোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। টানা ছ’ বছর ধরে তাকে পাকড়াও করতে না পারায় আদালতে বার বার সমালোচনার মুখে পড়তে হতো পুলিসকে। পুলিসের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট আদালত ১ জুলাই ওই থানার ওসিকে সশরীরে কোর্টে তলব করেছিল। শেষমেশ সোমবার হরিপদ ধরা পড়ে। মঙ্গলবার তাকে কাঁথি এসিজেএম কোর্টে তুলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে পুলিস। এদিন ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিনকে আর আদালতে হাজিরা দিতে হয়নি। এদিকে এতদিনে হরিপদর স্ত্রীর বকেয়া খোরপোশের পরিমাণ দেড় লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার বিচারক ধৃতকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন। খোরপোশের টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়া হবে না বলে এদিন জানিয়ে দেন তিনি। ভূপতিনগর থানার দক্ষিণ বায়েন্দা গ্রামের হরিপদ মণ্ডল বিয়ে করেছিল ওই থানারই পাঁচঘড়ি গ্রামের মৌসুমী পালকে। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে দম্পতির মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকত। স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ আনেন মৌসুমীদেবী। পাশাপাশি খোরপোশের মামলাও দায়ের করেন। সেই মামলায় কাঁথি কোর্ট প্রতি মাসে স্ত্রীকে তিন হাজার টাকা দেওয়ার জন্য হরিপদকে নির্দেশ দেয়। ওই রায় শোনার পরই রাতারাতি ভ্যানিশ হয়ে যায় হরিপদ। বাড়ির সঙ্গে বিন্দুমাত্র যোগাযোগ ছিল না।

Advertisement

এদিকে আদালতের নির্দেশের পরও খোরপোশ বাবদ প্রতি মাসে টাকা না পেয়ে বার বার আদালতের কড়া নাড়তে থাকেন মৌসুমীদেবী। কোর্ট হরিপদর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। অবিলম্বে তাকে হাজির করানোর জন্য ভূপতিনগর থানার পুলিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু, পুলিস কিছুতেই হরিপদকে ধরতে পারছিল না। 
গ্রামের পঞ্চায়েতের সদস্য, পঞ্চায়েত প্রধানের কাছেও হরিপদর কোনও খবর ছিল না। পরোয়ানা জারির পরও কেন একজনকে আদালতে পেশ করা যাচ্ছে না তার কৈফিয়ত দিতে দিতে নাজেহাল হচ্ছিল পুলিস।
হরিপদর খোঁজ পেতে শেষপর্যন্ত জেলা পুলিসের ক্রাইম মনিটরিং সেলের (সিএমজি) দ্বারস্থ হয় ভূপতিনগর থানা। হরিপদর সন্ধান পেতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগায় সিএমজি সেল। জানা যায়, বরানগর থানার অধীন এক জায়গায় হরিপদ লুকিয়ে রয়েছে। সেখানে সে অটো চালায়। এরপর সোমবার সিএমজি সেল এবং ভূপতিনগর থানার পুলিস সেখানে হানা দিয়ে চলন্ত অটো থামিয়ে তাকে পাকড়াও করে। গ্রেপ্তার করার রাতেই ভূপতিনগর থানায় আনা হয়। ভূপতিনগর থানার ওসি বলেন, আমরা সোমবার হরিপদকে গ্রেপ্তার করেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ