নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া পুরসভার খাতায় তিনি অস্থায়ী সাফাই কর্মী। কিন্তু, তাঁর একমাত্র ‘ডিউটি’ নিজের ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে বাইকের পিছনে চাপিয়ে ঘোরানো। আর সময়ে এসে হাজিরা খাতায় সই করে প্রতি মাসে বেতন তোলা। পুরসভার কোনও কাজই তিনি করেন না। পুরলিয়া পুরসভায় এরকম কর্মী শুধুমাত্র একজন নয়, অন্তত দুই শতাধিক! পুরসভার কাজ কম বরং কাউন্সিলারের ‘চ্যালাগিরিই’ বেশি করেন। আবার এমন বহু ‘ভূতুড়ে’ কর্মী আছেন, যাঁদের পুরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইন্সপেক্টররা চেনেনই না। অথচ তাঁদের নামে মাসে মাসে মোটা টাকা বিল তোলেন কাউন্সিলারদের একাংশ। এসব কর্মীদের নিয়ে নাজেহাল পুরসভা। এমনিতেই পুরসভার আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি। তারউপর প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ‘অকাজের’ কর্মী হয়ে গিয়েছে। এসব কর্মীদের পিছনে মাসে মাসে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে পুরসভাকে। যার ফলে প্রকৃত কর্মীদের মাইনে দিতে পুরসভাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাফাই বিভাগের কর্মীদেরই এই মুহূর্তে দু’মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে!
Advertisement
পুরসভা সূত্রের খবর, পুরসভার সাফাই, জল, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন দপ্তর মিলিয়ে এই মুহূর্তে প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মী রয়েছে। প্রতি মাসে তাঁদের বেতনের জন্য প্রায় ৮০লক্ষ টাকা খরচ হয়। অথচ পুরসভার নিজস্ব তহবিলের আয় তার অর্ধেকও নয়। এক খাতের বরাদ্দ টাকা অন্য খাতে খরচ করে গোঁজামিল দিয়ে পুরসভা চলছে। পুরসভার এক আধিকারিকের দাবি, পুরসভার এত কর্মীর প্রয়োজনই নেই। কিন্তু, কাউন্সিলারদের ঠেলায় এত বেশি কর্মী নিয়োগে বাধ্য হয়েছে পুরসভা। এই বোর্ডেও প্রত্যেক কাউন্সিলার নিজেদের ওয়ার্ডের পাঁচজন করে কর্মী নিয়োগ করেছেন। তাতে আবার স্বচ্ছতা খুঁজতে যাবেন না।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বেতন দিয়ে কোনও কর্মী নিয়োগ করতে গেলেও বোর্ড মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু, সেসব কিছুর বালাই এখানে নেই। শুধুমাত্র কাউন্সিলারদের সুপারিশেই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকের কাছে নিয়োগপত্র পর্যন্ত নেই! তবে, এই প্রথা এবারই নয়, বিগত বোর্ড থেকেই চলে আসছে। যিনি যত বারের কাউন্সিলার, তাঁর সুপরিশে তত বেশি কর্মী নিয়োগ হয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, এইসব কর্মীদের খুঁজে বের করে ছাঁটাই করতে একাধিকবার উদ্যোগী হয়েছিলেন চেয়ারম্যান। সাফাই, বিদ্যুৎ বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরের শতাধিক কর্মীকে বাদও দেওয়া হয়েছে। কোনও কর্মীর নামে যাতে ‘ভুয়ো’ বিল না ওঠে, সেই ব্যবস্থাও করেছেন। তবে কাউন্সিলারদের নিয়োগ করা ‘অকাজের’ কর্মীদের গায়ে বিশেষ হাত লাগাতে পারেননি। কেন? এক আধিকারিকের বক্তব্য, তা করতে গেলেই যদি অনাস্থার মুখে পড়তে হয়! সেই চাপ তো রয়েইছে!
বিষয়টি মানছেন পুরসভার সিআইসি সদস্য তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা। তিনি বলেন, পুরুলিয়া পুরসভার এটা অনেক পুরনো সমস্যা। আমরা ‘ভূতুড়ে’ কর্মীদের বাদ দিয়ে যেখানে পুরসভার আর্থিক বোঝা কমানোর চেষ্টা করছি, সেখানে কয়েকজন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানকে প্রতিদিন ওয়ার্ডে নতুন ছেলেকে নিয়োগ করার আর্জি দিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এই সমস্যার কোনওদিন সমাধান হবে না।
চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, যারা কাজে আসছে না, তাদের চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হয় কাজ করতে হবে, না হলে ছাঁটাই করা হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বেতন দিয়ে কোনও কর্মী নিয়োগ করতে গেলেও বোর্ড মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু, সেসব কিছুর বালাই এখানে নেই। শুধুমাত্র কাউন্সিলারদের সুপারিশেই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকের কাছে নিয়োগপত্র পর্যন্ত নেই! তবে, এই প্রথা এবারই নয়, বিগত বোর্ড থেকেই চলে আসছে। যিনি যত বারের কাউন্সিলার, তাঁর সুপরিশে তত বেশি কর্মী নিয়োগ হয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, এইসব কর্মীদের খুঁজে বের করে ছাঁটাই করতে একাধিকবার উদ্যোগী হয়েছিলেন চেয়ারম্যান। সাফাই, বিদ্যুৎ বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরের শতাধিক কর্মীকে বাদও দেওয়া হয়েছে। কোনও কর্মীর নামে যাতে ‘ভুয়ো’ বিল না ওঠে, সেই ব্যবস্থাও করেছেন। তবে কাউন্সিলারদের নিয়োগ করা ‘অকাজের’ কর্মীদের গায়ে বিশেষ হাত লাগাতে পারেননি। কেন? এক আধিকারিকের বক্তব্য, তা করতে গেলেই যদি অনাস্থার মুখে পড়তে হয়! সেই চাপ তো রয়েইছে!
বিষয়টি মানছেন পুরসভার সিআইসি সদস্য তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা। তিনি বলেন, পুরুলিয়া পুরসভার এটা অনেক পুরনো সমস্যা। আমরা ‘ভূতুড়ে’ কর্মীদের বাদ দিয়ে যেখানে পুরসভার আর্থিক বোঝা কমানোর চেষ্টা করছি, সেখানে কয়েকজন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানকে প্রতিদিন ওয়ার্ডে নতুন ছেলেকে নিয়োগ করার আর্জি দিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এই সমস্যার কোনওদিন সমাধান হবে না।
চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, যারা কাজে আসছে না, তাদের চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হয় কাজ করতে হবে, না হলে ছাঁটাই করা হবে।



