সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাস উৎসবে মেতেছে নবদ্বীপ। শুক্রবার ভোর থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপে পুজো, হোমযজ্ঞ শুরু হয়। প্রতিটি মণ্ডপে দীর্ঘ লাইন পড়ে। বাইরে থেকে বহু মানুষ নবদ্বীপে প্রতিমা দর্শনে আসেন। তাই নবদ্বীপ ধাম স্টেশন, বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট, বাস স্ট্যান্ড এবং ফেরিঘাটে ছিল যথেষ্ট ভিড়। এদিন রীতি মেনে তন্ত্র সাধক ভৃগুরামের প্রতিষ্ঠিত তেঘড়িপাড়ার বড় শ্যামা মায়ের পুজো হয় তন্ত্র মতে। উদ্যোক্তাদের দাবি, এই পুজো ৩০০ বছরের প্রাচীন। দেবীকে স্বর্ণালংকারে সাজানো হয়। এদিন অনেকেই গঙ্গাস্নান করে দণ্ডিকেটে পুজো মণ্ডপে এসে বড় শ্যামার কাছে পুজো দেন। এই এলাকায় আরও রয়েছেন ভড়পাড়ার মেজো শ্যামা, সুধাংশু চ্যাটার্জি লেনের সেজো শ্যামা এবং ছোট শ্যামা।
Advertisement
এছাড়া রাসের প্রথম পুজো এলানিয়া কালী, ব্যাদড়াপাড়া ও আমপুলিয়া পাড়ার শবশিবা, দণ্ডপাণিতলার মুক্তকেশী, যোগনাথতলার গৌরাঙ্গিনী মাতা, চারিচারা বাজারের ভদ্রকালী, শ্রীবাস অঙ্গন রোডের বিন্ধ্যবাসিনী মাতা। বড়ালঘাটের ভুবনেশ্বরী, ফাঁসিতলার কৃষ্ণকালী মাতা, আমড়াতলা ও বঙ্গপাড়া মহিষমর্দিনী, প্রাচীন মায়াপুরের মহাচক্ররাস, রাম গোবিন্দ রোডের ভারতমাতা, পোড়ামাতলার মহিষাসুরমর্দিনী মাতার পুজো মণ্ডপে সকাল থেকেই বহু দর্শনার্থী ভিড় জমান।
নবমী পুজোর সেই উন্মাদনা না থাকলেও এদিন হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতিটি পুজো কমিটির তিন থেকে পাঁচজন সদস্য নবমী পুজো দিতে আসে পোড়ামাতলায়। বড় শ্যামা মায়ের কাছে রাত জেগে দণ্ডি কাটলেন পুণ্যার্থীরা। মণিপুর ঘাট থেকে তেঘড়িপাড়ার বড় শ্যামা মায়ের মন্দির পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পথ দণ্ডি কাটলেন ভক্তরা। নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন এই ভক্তরা। স্থানীয় প্রফুল্লনগরের বাসিন্দা নির্মল দেবনাথ এদিন দণ্ডি কেটে বড় শ্যামা মায়ের কাছে পুজো দিলেন। তিনি বলেন, সন্তানের জন্যই মায়ের কাছে মানত করেছিলাম। মানত পূরণ হওয়ায় স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের কাছে দণ্ডী কেটে পুজো দিলাম। তবে এবছর পাঁঠাবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
বড়শ্যামা মন্দিরের কাছে ভোগের দোকান নিয়ে বসেছেন ৭০ বছরের দিলীপ সাহা। তিনি বলেন, প্রতিবছরই রাসপুজোর দিন এখানে ভোর থেকে দোকান পেতে বসি। ২১ টাকা থেকে শুরু করে ১০১ টাকা পর্যন্ত ভোগের থালি।
তেঘড়ি পাড়ার বাসিন্দা লালমোহন মোদক বলেন, এই দেবীর কাছে অনেকেই চাকরি, ব্যবসা, শারীরিক সুস্থতা এবং সন্তান কামনা সহ বিভিন্ন কারণে মানত করেন।
গবেষক শান্তিরঞ্জন দেব জানালেন, শুদ্ধ কথায় এটাকে বলে মানাস, চলতি কথায় মানত হয়েছে। ভক্ত ভগবানের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশায় বা তাঁর অভিষ্ট পূরণ করতে মনে সংকল্প করে বা কামনা করে। মনে মনে কামনা করে বলেই তা মানস পুজো, এটাই আসলে মানত।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, দেড় হাজারের মতো পুলিস কর্মী থাকছেন। প্রতি বছরের মত সাহায্যকারী বুথ থাকছে। দুজন অতিরিক্ত পুলিস সুপার থাকছেন। ১৫ জন ডিএসপি, ২৫ জনের মতো ইন্সপেক্টর, ৬০ জন সাব ইন্সপেক্টর এবং বাকি আরও অফিসাররা থাকছেন। পকেটমারি, ইভটিজিং রুখতে স্পেশাল ফোর্স থাকছে। প্রায় দেড়শো সিসি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে শহরজুড়ে।
রাস পুজোর পরের দিন অর্থাৎ শনিবার প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রার (আড়ং) রীতি রয়েছে নবদ্বীপে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে শোভাযাত্রার একদিন পরেই নবদ্বীপে পুরসভার পরিচালনায় কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। এ বছর ১৮ নভেম্বর কার্নিভাল। কার্ডিভালে অংশ নেবে ১৮ টি বারোয়ারি এবং ক্লাবের প্রতিমা।
নবমী পুজোর সেই উন্মাদনা না থাকলেও এদিন হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতিটি পুজো কমিটির তিন থেকে পাঁচজন সদস্য নবমী পুজো দিতে আসে পোড়ামাতলায়। বড় শ্যামা মায়ের কাছে রাত জেগে দণ্ডি কাটলেন পুণ্যার্থীরা। মণিপুর ঘাট থেকে তেঘড়িপাড়ার বড় শ্যামা মায়ের মন্দির পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পথ দণ্ডি কাটলেন ভক্তরা। নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন এই ভক্তরা। স্থানীয় প্রফুল্লনগরের বাসিন্দা নির্মল দেবনাথ এদিন দণ্ডি কেটে বড় শ্যামা মায়ের কাছে পুজো দিলেন। তিনি বলেন, সন্তানের জন্যই মায়ের কাছে মানত করেছিলাম। মানত পূরণ হওয়ায় স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের কাছে দণ্ডী কেটে পুজো দিলাম। তবে এবছর পাঁঠাবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
বড়শ্যামা মন্দিরের কাছে ভোগের দোকান নিয়ে বসেছেন ৭০ বছরের দিলীপ সাহা। তিনি বলেন, প্রতিবছরই রাসপুজোর দিন এখানে ভোর থেকে দোকান পেতে বসি। ২১ টাকা থেকে শুরু করে ১০১ টাকা পর্যন্ত ভোগের থালি।
তেঘড়ি পাড়ার বাসিন্দা লালমোহন মোদক বলেন, এই দেবীর কাছে অনেকেই চাকরি, ব্যবসা, শারীরিক সুস্থতা এবং সন্তান কামনা সহ বিভিন্ন কারণে মানত করেন।
গবেষক শান্তিরঞ্জন দেব জানালেন, শুদ্ধ কথায় এটাকে বলে মানাস, চলতি কথায় মানত হয়েছে। ভক্ত ভগবানের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশায় বা তাঁর অভিষ্ট পূরণ করতে মনে সংকল্প করে বা কামনা করে। মনে মনে কামনা করে বলেই তা মানস পুজো, এটাই আসলে মানত।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, দেড় হাজারের মতো পুলিস কর্মী থাকছেন। প্রতি বছরের মত সাহায্যকারী বুথ থাকছে। দুজন অতিরিক্ত পুলিস সুপার থাকছেন। ১৫ জন ডিএসপি, ২৫ জনের মতো ইন্সপেক্টর, ৬০ জন সাব ইন্সপেক্টর এবং বাকি আরও অফিসাররা থাকছেন। পকেটমারি, ইভটিজিং রুখতে স্পেশাল ফোর্স থাকছে। প্রায় দেড়শো সিসি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে শহরজুড়ে।
রাস পুজোর পরের দিন অর্থাৎ শনিবার প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রার (আড়ং) রীতি রয়েছে নবদ্বীপে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে শোভাযাত্রার একদিন পরেই নবদ্বীপে পুরসভার পরিচালনায় কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। এ বছর ১৮ নভেম্বর কার্নিভাল। কার্ডিভালে অংশ নেবে ১৮ টি বারোয়ারি এবং ক্লাবের প্রতিমা।



